December 1, 2020 1:06 am

সিগারেট-বিড়ি উৎপাদন বন্ধ হচ্ছে না!

করোনাভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে এ অনুরোধ জানানো হয়

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তামাক উৎপাদন এবং তামাকজাত পণ্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানালেও, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বুধবার (২০ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  

তামাক ও তামাকজাত পণ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তামাক বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। এ শিল্পের সঙ্গে দেশের হাজার হাজার প্রান্তিক চাষী এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিল্পোন্নত দেশগুলোসহ গোটা বিশ্বে এখন পর্যন্ত তামাক শিল্প চালু রয়েছে। বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে এককভাবে এ শিল্পের অবদান সবচেয়ে বেশি। 

এই শিল্প হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হলে, একদিকে যেমন দেশ বিরাট অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে তেমনি বিপুল পরিমাণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগও বন্ধ হয়ে যাবে। আবার তামাক পাতা না কিনলে প্রান্তিক চাষিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা দেবে। ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ধূমপান কিংবা তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও এর সেবনকারীরা তা জেনেই সেবন করছেন। এ শিল্প সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলেও, তারা এটি সেবন করবেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রণোদনা ছাড়া শুধুমাত্র সাময়িক উৎপাদন বন্ধ করে করোনাকালে ধূমপান প্রতিরোধ করা যাবে না। বরং, এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে কালোবাজারিরা উৎসাহিত হবে এবং আমদানিকৃত সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের মাধ্যমে দেশ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় হারাবে। 

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এমনিতেই বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট চাপে হয়েছে এবং আগামী দিনে এই চাপ বাড়বে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প-কারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটা স্থবির হয়ে রয়েছে। এতে করে প্রান্তিক পর্যায়ে অনেক লোকজন বেকার হয়ে গেছেন। এই অবস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শিল্প উৎপাদন বন্ধ করলে, তা হবে মারাত্মক ক্ষতি।

শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, সামগ্রিক বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ শিল্প চালু রাখা যুক্তিসঙ্গত হবে। পাশাপাশি ধূমপান ও তামাক জাতীয় পণ্য সেবনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

এর আগে সোমবার (১৮ মে)  করোনাভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে এ অনুরোধ জানানো হয়। 

ওই আদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তামাক গ্রহণ কোভিড-১৯’এর সংক্রমণ বাড়িয়ে তোলে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করেছে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে করোনাভাইরাস ধুমপায়ীদের মারাত্মক ক্ষতি করে। অধুমপায়ীদের চেয়ে একজন ধুমপায়ীর করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৪ ভাগ বেশি থাকে। 

এর আগে প্রতিবেশী ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ তামাকজাত পণ্যের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। 

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই সম্পর্কিত আরো খবর...