May 18, 2022, 9:00 am

৫০ পেরোনোর পর বিপরীত লিটন-মুশফিক

Spread the love

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও এর প্রমাণ মিলেছে। আফগান বোলাররা এমন এলোমেলো বোলিং না করলে কে জানে, রূপান্তর হারের বদলে হয়তো শুরুতে কম্পমান লিটনকে নিয়েই কথা বলতে হতো।

থাক, যা হয়নি তা নিয়ে কথা বলার কোনো অর্থ নেই। বিশেষ করে এমন দিনে, যেদিন লিটন মন ভরিয়ে দিয়ে ১২৬ বলে ১৩৬ রান করেন। চার-ছয় থেকেই আসে ৭৬ রান (১৬টি চার ও ২টি ছয়)। একটা ক্যাচ অবশ্য দিয়েছিলেন। তা পড়ে না গেলেও ’৫০ পেরোলেই অন্তত ’৭৬ কথাটা বদলাতে হতো না। কারণ, ততক্ষণে লিটনের রান হয়ে গিয়েছিল ৮৭।

মুশফিকের যে প্রবণতার কথা বলা হলো, তার কারণ খুঁজে পাওয়া অবশ্য কঠিন কিছু নয়। যে পজিশনে ব্যাটিং করেন, তাতে ৮০ করে ফেলার পর খুব চালিয়ে খেলতে হয়। যার অর্থই বাড়তি ঝুঁকি নেওয়া, যার অর্থই আউট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া।

লিটন আউট হয়ে যাওয়ার পরের বলেই র‍্যাম্প শট খেলতে যাওয়ার কারণও তো ওই দ্রুত রান করার তাড়া। ইনিংসের ৪৭তম ওভার চলছে, হাতে ৭ উইকেট। এ সময় শুধু র‍্যাম্প কেন, যেকোনো শট খেলাই জায়েজ।

লিটন-মুশফিককে নিয়ে লেখাটা শুরু করার কারণ নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান তো এই দুজনেরই। রানে অনুবাদ করলে যা ২০২। তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড।

টসে জিতে তামিম ইকবাল যেখানে সুনির্দিষ্টভাবে ২৬০ রানের লক্ষ্যের কথা বলে দিয়েছিলেন, এই দুজনের কল্যাণে রান হয়ে গেল আরও ৪৬ বেশি। দেশের মাটিতে টানা ষষ্ঠ ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে তখনই। আফগানিস্তান তো পরে ব্যাটিং করে কখনো ২৮৮ রানের বেশিই করতে পারেনি।

পরে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে যদি ‘জয়’টাকেও যুক্ত করে দেন, তাহলে রানটা আরও কমে আসে। ২৭৩ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই আফগানদের, সেই জয়ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এই ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটা তাই দুই ইনিংসের বিরতির সময়ই সেরে ফেলা যেত।

লাইনটা লিখেই মনে হলো, বড় অক্রিকেটীয় হয়ে গেল কথাটা। আগে কোনো দিন হয়নি বলে আজও হবে না—এমন কোনো কথা আছে নাকি! তা হয়তো নেই, তবে প্রথম ম্যাচের ওই ধাক্কার পর আফগানিস্তানের অমন কিছু করে ফেলার চেয়ে পুতিন আর জেলেনস্কির বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও একটু বেশি বলে মনে হচ্ছিল।

প্রথম ম্যাচেও বাংলাদেশের বোলাররা তাদের কাজটা সুচারুভাবেই সম্পন্ন করেছিলেন। আর আজ তো ছিল ভয়ভাবনাহীন আনন্দে বোলিং করে যাওয়ার সুযোগ। বোলিং ফিগার (২/৩১) অবশ্যই তাসকিনকে এগিয়ে রাখবে; তবে বাংলাদেশের বোলিং কার্ডে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দিক, সাত বোলারের সবারই উইকেট পাওয়া। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ মাত্র এক ওভার করেই আর আফিফের তো স্ট্রাইক রেট আরও বিধ্বংসী। এক বল, এক উইকেট!

বিপরীত মেরুতে আফগানিস্তানের দুই তারকা স্পিনার। সিরিজ শুরুর আগে রশিদ খান ও মুজিব-উর রেহমানকে নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা ছিল বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচেই সেই জুজু জয় করার কাজটা করে ফেলেছেন আফিফ আর মিরাজ। আর দ্বিতীয় ম্যাচটা হয়ে থাকল বাংলাদেশের বিপক্ষে দুজনেরই সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের সাক্ষী।

মুজিব এর আগে কখনো ৩৯ রানের বেশি দেননি, আজ দিলেন ৪৯। উইকেটশূন্য থাকার ঘটনাও আজই প্রথম। রশিদ খান ২০১৯ বিশ্বকাপে ৫২ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। আজ একটা উইকেট পেলেও রান দিলেন আরও ২ বেশি। এই সিরিজ থেকে আরও সব প্রাপ্তির মধ্যে রশিদ-মুজিবকে নিয়ে ভয় কেটে যাওয়াটাও থাকবে।

প্রাপ্তির কথা বললে সবচেয়ে বড় তো অবশ্যই ওয়ানডের সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে প্রথম দল হিসেবে তিন অঙ্ক ছোঁয়া। এক সময় হয়তো টেবিলটা বদলাবে। তা যখন বদলাবে, তখন দেখা যাবে। আপাতত পয়েন্ট তালিকাটা প্রিন্ট করে বাঁধিয়ে রাখতেই পারেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এই সম্পর্কিত আরো খবর...
العربية বাংলা English हिन्दी