May 17, 2022, 8:52 am

চট্টগ্রামে ১৪ হাজারের মধ্যে স্কুলে যায় এক হাজার

Spread the love

সরকারি হিসাবে চট্টগ্রামে অটিজমের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন লোকের সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি। এর মধ্যে দুই–তৃতীয়াংশের বয়স ২০ বছরের মধ্যে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে হাজারখানেক শিশু–কিশোর বিশেষায়িত স্কুলের সুবিধা পাচ্ছে। সামাজিক কারণে গুটিয়ে রাখা, আর্থিক অসংগতি, সচেতনতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা এসব সুযোগ নিতে পারছে না।

এর ফলে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রশিক্ষণ, থেরাপি ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা কিছু স্কুল ও প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে অটিজম আক্রান্তদের এসব প্রশিক্ষণ, থেরাপি ও শিক্ষাকাজ এগিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও অটিজম আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন কাজে দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ১৪টি অটিজম স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত। এসব স্কুলে সব মিলিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০–এর বেশি নয়। এ ছাড়া কিছু অনিয়মিত প্রশিক্ষণার্থীও আসে। এসব স্কুলে অটিজম আক্রান্তদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাক (স্পিচ) ও ভাষাগত (ল্যাঙ্গুয়েজ) থেরাপির মাধ্যমে আচরণগত পরিবর্তনে কাজ করা হয়। পাশাপাশি লেখাপড়ার কাজও চলে। বিশেষায়িত এসব স্কুলে লেখাপড়া করে নিয়মিত কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পঞ্চম, অষ্টম ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় অটিজম আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া কিছু কিছু ছেলেমেয়ে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পড়ছে।

জানতে চাইলে নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশন ও স্কুলের সভাপতি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বাসনা মুহুরী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন অনুযায়ী, অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজার বলা হলেও এটা কয়েক গুণ বেশি হবে। অনেকে সন্তান অটিজমে আক্রান্ত হলে তা প্রকাশ করেন না। তবে এই ১৪ হাজারের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু–কিশোর। এদের ঘরে লুকিয়ে না রেখে যদি স্কুলে নিয়ে বিভিন্ন থেরাপি দেওয়া হতো ও পড়ালেখা করানো হতো, তাহলে তাদের আচরণগত পরিবর্তন হতো। বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান এটা নিয়ে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অটিজম আক্রান্তদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আচরণ, যোগাযোগ ও ব্যবহারগত পরিবর্তন সম্ভব।

জানা গেছে, অনেকটা নিজস্ব অর্থায়নে চলছে বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠান। নিষ্পাপ অটিজম স্কুলে বর্তমানে ১১০ জন শিশু-কিশোর নিয়মিত আসে। তারা থেরাপির পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়। এর বাইরে অনিয়মিতভাবে আরও কিছু শিশু–কিশোর এখানে আসে।

একইভাবে নগরের আরেকটি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা অটিজম স্কুলে রয়েছে ৫৯ জন শিক্ষার্থী। এ বিদ্যালয়ে শিশুদের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও থেরাপি দেওয়া হয়। এখানে বিভিন্ন থেরাপির পাশাপাশি কারিগরি (ভোকেশনাল) প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এভাবে আচরণগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে অটিজম আক্রান্তদের।

জানতে চাইলে স্পেকট্রার চেয়ারম্যান ফাহমিদা ইসলাম চৌধুরী বলেন, কোভিডের পর অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের বিদ্যালয়ে আসার হার কমেছে। বিদ্যালয়ের শিশুদের পাশাপাশি বাইরের অনেক শিশুও এখানে থেরাপি নিতে আসে বলে তিনি জানান। তবে সবাই প্রশিক্ষণ ও থেরাপি সুবিধা পাচ্ছে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও অটিজম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অটিজমবিষয়ক পরামর্শক সায়মা ওয়াজেদ হোসেন যথেষ্ট সাহায্য করছেন। সমাজকল্যাণ থেকেও কিছু অনুদান পাওয়া যায়।

জানা গেছে, অটিজম আক্রান্তদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারিভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো চট্টগ্রামে গড়ে ওঠেনি। প্রশিক্ষিত শিক্ষকেরও অভাব রয়েছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেশ–বিদেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষক এনে অটিজম ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। তবে নিষ্পাপ, স্পেকট্রা, প্রয়াসসহ কয়েকটি স্কুল তাদের পেশাদার শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছে।

জানতে চাইলে নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দাশ বলেন, ‘সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানগুলো চলে। কিছু অনুদান পাওয়া যায়। নিজেদের ছেলেমেয়ে অটিজমে আক্রান্ত বলেই এ কাজে আমরা এগিয়ে এসেছি। সরকারিভাবে সাহায্য–সহযোগিতা পেলে আরও কাজ করা সম্ভব হবে।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সমাজকল্যাণ কার্যালয়ের উপপরিচালক ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিদ্যালয়গুলোর পরিদর্শনকাজ শেষ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তকরণ প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া বিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন সময় অনুদান দেওয়া হচ্ছে। আর প্রতিজনকে প্রতিবন্ধী ভাতাও দেওয়া হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এই সম্পর্কিত আরো খবর...
العربية বাংলা English हिन्दी