হেলেনার জয়যাত্রা টিভি কী বন্ধ হচ্ছে?

Spread the love

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর  মালিকানাধীন আইপি টিভি ‘জয়যাত্রা’র অফিসেও অভিযান চালিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ওই আইপি টিভি অফিসে অভিযানের কথা জানায় র‌্যাব।

অভিযানের পর র‍্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ বলেন, হেলেনার মালিকানাধীন জয়যাত্রা টিভি অফিসে অভিযানে টেলিভিশন চ্যানেলটির কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া না গেলে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ভোররাত সোয়া ৪টায় অভিযান শেষে এসব কথা বলেন নাদির শাহ। তিনি বলেন, রাতে গুলশানের বাসায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে আটক করা হয়। আটকের পর তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানা যায়, জয়যাত্রা নামে তাঁর একটি আইপি টেলিভিশন রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে মিরপুর জয়যাত্রা টেলিভিশনের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে সম্প্রচার চ্যানেল হিসেবে যেসব সেটাপ থাকা দরকার তার সবকিছুই রয়েছে। কিন্তু টেলিভিশন চ্যানেলটির কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

নাদির শাহ আরো বলেন, জয়যাত্রা টেলিভিশনের জন্য সারা দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন হেলেনা। এমনকি দেশের বাইরেও প্রতিনিধি নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে । বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ার কারণে পরবর্তীতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এখানে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের অফিস পেয়েছি। এ বিষয়েও তদন্ত করা হবে।’

চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে কি-না তা জানতে চাওয়া হলে  র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত করে যদি বৈধ কাগজপত্র পাওয়া না যায় তাহলে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে র‌্যাব-২-এর একটি দল হেলেনার অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায়। অভিযান শেষে তাঁর বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো সরঞ্জামসহ আরো অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের উপর ভিত্তি করে রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এরপর তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বাসা থেকে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় রাতেই মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে কি-না জানতে চাওয়া হলে  র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অধিকতর তদন্ত করার পর পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত করে যদি বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া যায় তাহলে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে র‌্যাবের তিনজন নারী সদস্য ওই বাসায় প্রবেশ করেন। অভিযানের সময় হেলেনা যে বাসাটিতে থাকেন সেটির মূল ফটক বন্ধ করে দেয় র‌্যাব। এ সময় কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বাইরে থেকে ভবনের নিচতলায় র‌্যাবের সাদা পোশাকের সদস্যরা অবস্থান নেন। এরপর রাত সোয়া ১১টার দিকে অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব কর্মকর্তা।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় হেলেনা জাহাঙ্গীরকে। উপ-কমিটির সদস্যসচিব এবং আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন; কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নীতিবহির্ভূত হওয়ায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

র‌্যাবের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁর অনেক আর্থিক দুর্নীতির খোঁজ পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাঁর বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই সম্পর্কিত আরো খবর...
العربية বাংলা English हिन्दी