গ্রাহকদের ‘বড় সুখবর’ দিলেন ইভ্যালির সিইও রাসেল

Spread the love

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী রোববার (২২ অগাস্ট) থেকে ইভ্যালি অফিস সম্পূর্ণভাবে খোলা থাকবে ও পূর্ণ শক্তিতে কার্যক্রম চলতে থাকবে বলে জানিয়েছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল। রোববার (১৫ অগাস্ট) ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমনটা জানিয়েছেন তিনি।

রাসেল বলেন, ‘সরাসরি কাস্টমার সার্ভিস এর জন্য অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার অনুরোধ করা হলো। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত জানানো হবে। ইনশাল্লাহ ইভ্যালি পূর্ণ শক্তিতে কার্যক্রম চলতে থাকবে। পাশে থাকুন।’

আবারও নতুন করে গ্রাহকদের সুখবর দিতে যাচ্ছে ইভ্যালি। আগের অর্ডার ডেলিভারি সহ নতুন আরও সুবিধা নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (১১ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির ‘ইভ্যালি অফার অ্যান্ড রিভিউ’ নামের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মোহাম্মদ রাসেল জানান শিগগিরই নতুন সুখবর দিবেন গ্রাহকদেরকে।

তিনি সেই স্ট্যাটাসে লেখেন, সময় দিন, ইভ্যালির ভেলকি পজিটিভলি যেকোনো সময় দেখতে পারবেন। আমরা ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই আপনাদের ডেলিভারির পাশাপাশি বিভিন্ন সুখবর দিতে থাকব।

রাসেল বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের তিন সপ্তাহ সময় দেবে তথ্য সরবরাহের জন্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা। আপনারা জানেন, আপনাদের বর্তমান অর্ডারগুলো শুধু ডেলিভারির পর আমরা টাকা পাই। অর্থাৎ আপনার টাকার নিরাপত্তা এখন দেওয়া হচ্ছে।

যেহেতু অধিকাংশ পণ্য অগ্রিম টাকা দিয়ে আমাদের কিনতে হয়, ফলে বিনিয়োগের বিশাল একটা অংশ আমাদের বর্তমান বিজনেস পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের আগের অর্ডারগুলোর ডেলিভারি চলমান রয়েছে। এ ডেলিভারি দ্রুততর করার জন্য কিন্তু বিনিয়োগ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘যাদের অর্ডার পেন্ডিং তাদের মানসিক অবস্থা অবশ্যই আমাদের বোধগম্য। কিন্তু একটি বিষয় আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আপনার অর্ডার অথবা রিফান্ড কিছুটা বিলম্ব হলেও আপনি অবশ্যই সেটি পেয়ে যাবেন। অনেকে উদ্বিগ্ন থাকার দরুন আমাদের অফিসে এসে অথবা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত ডেলিভারি বা রিফান্ডের পরিকল্পনা করছেন। সত্যিকার অর্থে এই আমরা যে বিজনেস করেছি, সেখানে আমাদের মেইন অ্যাসেট হলো আমাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু।

ফলে চাপ প্রয়োগে আমাদের বিজনেস বন্ধ হলে অ্যাসেট সেল করে আপনাদের সব অর্ডার ডেলিভারির কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং আমরা বিজনেস চালিয়ে যেতে পারলে আপনাদের সব অর্ডার ডেলিভারি করতে পারব। আমরা সেজন্য বিগত মাসে ৬ মাস সময় চেয়েছি। আপনারা জানেন, আমরা রেগুলারলি পুরাতন অর্ডার ডেলিভারি করে যাচ্ছি। আমরা গত ৪০ দিনে আড়াই লাখের অধিক অর্ডার ডেলিভারি করেছি। আমরা ইক্যাব-কে কাস্টমারদের ডিটেইলসসহ সাবমিট করেছি। সুতরাং আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা একটু সময় দিন। চাপ প্রয়োগে আপনার অর্ডার দ্রুত দেওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই।’

ইভ্যালি এখন সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে বিজনেস করছে উল্লেখ করে রাসেল বলেন, ‘আপনারা এটাও জানেন আমরা এখন সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে বিজনেস করছি। সুতরাং কোনো ই-কমার্সের সঙ্গে তুলনা করে ডেলিভারি টাইম লাইন না দেখার অনুরোধ রইল। আমরা শতভাগ আশাবাদী, আপনারা একটি শক্তিশালী ইভ্যালি অবশ্যই দেখতে পাবেন। আমরা ৬ মাস বলেছি সর্বোচ্চ সময় বিবেচনা করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে নতুন করে আলোচনায় আসে ইভ্যালি। ওই প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

ইভ্যালিকে ২২ দিন সময় দিলো সরকার : গ্রাহক ও মার্চেন্টদের প্রতি চলমান দায়ভার স্পষ্ট করার ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আলোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালিকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক নোটিশে এ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করারও নির্দেশ দেয় প্রতিষ্ঠানটিকে।

এছাড়া, ইভ্যালিকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়কালের কোম্পানি সম্পদ ও দায় বিবরণী আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এবং একই সময়কালের হিসাবে গ্রাহকের কাছে মোট দেনার পরিমান ও এ সংশ্লিষ্ট গ্রাহক সংখ্যা ২৬ আগস্টের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, দায় মেটানোর ব্যাখ্যা দিতে ৬ মাস সময় চেয়ে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় ইভ্যালি।

তারও আগে, গত ১৯ জুলাই বহুল আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবসা পদ্ধতি ও গ্রাহক ভোগান্তির কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

নোটিশে ইভ্যালির আর্থিক ত্রুটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির কাছে। ১ আগস্টের মধ্যে নোটিশে উল্লেখিত বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

গ্রাহক ও মার্চেন্টদের সুরক্ষা এবং ই-কমার্স খাতে নেতিবাচক প্রভাব রোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিওটিও সেল সেদিন ওই নোটিশ পাঠায়।

তবে দায় মেটানোর ব্যাখ্যা দিতে ৬ মাস সময় চেয়ে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় ইভ্যালি। সময় চাওয়ার প্রেক্ষিতে দায় মেটানোর ব্যাখ্যা দিতে ২২ দিন সময় পেল ইভ্যালি।

ইভ্যালির ভেলকি যেকোনো সময় দেখতে পারবেন : ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ রাসেল বলেছেন, গ্রাহকদের অর্ডার অথবা রিফান্ড কিছুটা বিলম্ব হলেও অবশ্যই পেয়ে যাবেন, সময় দিন, ইভ্যালির ভেলকি পজিটিভলি যেকোনো সময় দেখতে পারবেন।

বুধবার (১১ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির ‘ইভ্যালি অফার অ্যান্ড রিভিউ’ নামের অফিসিয়াল পেজে গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

রাসেল স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের তিন সপ্তাহ সময় দেবে তথ্য সরবরাহের জন্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা। আপনারা জানেন, আপনাদের বর্তমান অর্ডারগুলো শুধু ডেলিভারির পর আমরা টাকা পাই। অর্থাৎ আপনার টাকার নিরাপত্তা এখন দেওয়া হচ্ছে।

যেহেতু অধিকাংশ পণ্য অগ্রিম টাকা দিয়ে আমাদের কিনতে হয়, ফলে বিনিয়োগের বিশাল একটা অংশ আমাদের বর্তমান বিজনেস পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের আগের অর্ডারগুলোর ডেলিভারি চলমান রয়েছে। এ ডেলিভারি দ্রুততর করার জন্য কিন্তু বিনিয়োগ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘যাদের অর্ডার পেন্ডিং তাদের মানসিক অবস্থা অবশ্যই আমাদের বোধগম্য। কিন্তু একটি বিষয় আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আপনার অর্ডার অথবা রিফান্ড কিছুটা বিলম্ব হলেও আপনি অবশ্যই সেটি পেয়ে যাবেন। অনেকে উদ্বিগ্ন থাকার দরুন আমাদের অফিসে এসে অথবা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত ডেলিভারি বা রিফান্ডের পরিকল্পনা করছেন। সত্যিকার অর্থে এই আমরা যে বিজনেস করেছি, সেখানে আমাদের মেইন অ্যাসেট হলো আমাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু।

ফলে চাপ প্রয়োগে আমাদের বিজনেস বন্ধ হলে অ্যাসেট সেল করে আপনাদের সব অর্ডার ডেলিভারির কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং আমরা বিজনেস চালিয়ে যেতে পারলে আপনাদের সব অর্ডার ডেলিভারি করতে পারব। আমরা সেজন্য বিগত মাসে ৬ মাস সময় চেয়েছি। আপনারা জানেন, আমরা রেগুলারলি পুরাতন অর্ডার ডেলিভারি করে যাচ্ছি। আমরা গত ৪০ দিনে আড়াই লাখের অধিক অর্ডার ডেলিভারি করেছি। আমরা ইক্যাব-কে কাস্টমারদের ডিটেইলসসহ সাবমিট করেছি।

সুতরাং আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা একটু সময় দিন। চাপ প্রয়োগে আপনার অর্ডার দ্রুত দেওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই।’

ইভ্যালি এখন সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে বিজনেস করছে উল্লেখ করে রাসেল বলেন, ‘আপনারা এটাও জানেন আমরা এখন সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে বিজনেস করছি। সুতরাং কোনো ই-কমার্সের সঙ্গে তুলনা করে ডেলিভারি টাইম লাইন না দেখার অনুরোধ রইল।

আমরা শতভাগ আশাবাদী, আপনারা একটি শক্তিশালী ইভ্যালি অবশ্যই দেখতে পাবেন। আমরা ৬ মাস বলেছি সর্বোচ্চ সময় বিবেচনা করে। ইভ্যালির ভেলকি পজিটিভলি যেকোনো সময় দেখতে পারবেন। আপনারা আড়াই বছর ধরে আমাদের সঙ্গে আছেন। আমরা ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই আপনাদের ডেলিভারির পাশাপাশি বিভিন্ন সুখবর দিতে থাকব।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চের এক হিসাব অনুযায়ী, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে মোট ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির কাছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা চলতি সম্পদ ছিল। দেড় মাসের মধ্যে গ্রাহকের হাতে পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম এসব টাকা নিয়ে রেখেছে ইভ্যালি। এই পরিস্থিতিতে বছর পর হয়ে গেলেও তারা পণ্য দিতে পারছে না।

এই পরিস্থিতি দেখার পর গত ১৯ জুলাই ইভ্যালির কাছে চিঠি দিয়ে কোম্পানিটি ব্যবসার ধরন, সম্পদ দায়, গ্রাহকের দেনা, মার্চেন্টদের কাছে দেনাসহ বিভিন্ন তথ্যগুলো জানতে চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ১ অগাস্ট এসব তথ্য দেওয়ার কথা থাকলেও ইভ্যালি দিতে পারেনি।

এ বিষয়ে বুধবার (১১ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এই হিসাব দিতে ইভ্যালি ছয় মাস সময় চাচ্ছে।

আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি কেউ নির্দিষ্ট সময়ে কোনো হিসাব দিতে না পেরে সময় চাইলে তাকে সময় দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনায় আমরা তাদেরকে আরও তিন সপ্তাহ বা ২১ দিন সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল হয়তো এসংক্রান্ত নোটিস ইভ্যালির কাছে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই সম্পর্কিত আরো খবর...
العربية বাংলা English हिन्दी