মুচকি হাসিতে সদকার সওয়াব!

Spread the love

হাস্যোজ্জ্বল মানুষকে সবাই ভালোবাসে। আপন ও কাছের ভাবে। হাসির মাধ্যমে আন্তরিকতা ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। একটুখানি মুচকি হাসি দুইজনের সম্পর্কে নতুনমাত্রাও যোগ করতে পারে।

 

কিন্তু কেউ যদি গোমড়ামুখে থাকে, তাহলে পরস্পর দ‍ূরত্ব ও ব্যবধান তৈরি হয়। তাই পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে সদা হাসিতেই সাক্ষাৎ করা উত্তম। হাসিমুখে কথা বলা ও বিনয়ী আচরণ ইসলামেরও সৌন্দর্য।

চলার পথে, কাজে-কর্মে বহু মানুষের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। একজন মুসলিম হিসেবে অন্য ভাইয়ের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ কেমন হওয়া উচিত, তা প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন। পাশাপাশি অপর ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, এটিকে তিনি সদকা হিসেবেও ঘোষণা করেছেন। (সদকা অর্থ দান; যার বিনিময়ে আল্লাহ আখেরাতে পুরস্কৃত করবেন। )
এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতিটি ভালো কাজ সদকা। আর গুরুত্বপূর্ণ একটি ভালো কাজ হলো, অন্য ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৭০)

অন্য হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের মুখে (সাক্ষাতে) মুচকি হাসি নিয়ে আসাও একটি সদকা। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৫৬)

কারো সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করলে সে খুশি হয়। মুখ মেঘাচ্ছন্ন করে রাখলে, মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাই সাক্ষাতে হাসিমুখে কথা বলা ও আনন্দ দেওয়ার বিষয়টি আল্লাহ তায়ালা বেশ পছন্দ করেন।

হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের কোনো মুসলিম ভাইকে খুশি করার জন্য এমনভাবে সাক্ষাৎ করে, যেমনটি সে নিজের জন্য পছন্দ করে। কেয়ামতের দিন (বিনিময়ে) আল্লাহ তায়ালা তাকে খুশি করবেন। (তাবারানি, হাদিস নং: ১১৭৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদিস নং : ১৩৭২১)

আমাদের প্রিয়নবী (সা.) সবসময় মুচকি হাসতেন। মুচকি হাসি ছিলো তার চিরাচরিত ভূষণ। প্রতিটি হাদিসগ্রন্থে তার হাসির ব্যাপারে আলোচনা এসেছে।

বস্তুত, হাসির মতো সাধারণ একটি আমলে আল্লাহ তায়ালা এতো বড় পুরস্কার দেবেন। ভাবতেই অবাক লাগে। হাসিমুখে কথা বলার দ্বারা মুমিন খুশি হয়। আর এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। ফলে বিনিময়ে তিনি বান্দাকে কেয়ামতের দিন আনন্দিত ও খুশি করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই সম্পর্কিত আরো খবর...
العربية বাংলা English हिन्दी