দুর্নীতির অভিযোগে বদলির আদেশ জারি হলেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সরকারি গাড়িচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার। বদলির আদেশ জারির প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও তিনি এখনো একই দপ্তরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর বনসংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের স্বাক্ষরিত এক আদেশে রঞ্জন কুমার মজুমদারকে বদলি করা হয়। তবে আদেশ জারির পরও তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
এর আগে, গত ৮ ডিসেম্বর রঞ্জন কুমার মজুমদারের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (টেকনাফ ও উখিয়া) দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ৬ ডিসেম্বর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটা, গাছ কাটা, বালু উত্তোলন, অবৈধ ফার্নিচার কারবারিদের ‘লাইন পাস’ দেওয়াসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে আসে।
বনবিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্রে আরও জানা গেছে, রঞ্জন কুমার মজুমদার প্রায় ১৭ বছর ধরে দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তার গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ সময় একই এলাকায় কর্মরত থাকার সুবাদে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সক্রিয় চোরাচালানি, কাঠ ও বালু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোনো অভিযান পরিচালনার আগেই তিনি সংশ্লিষ্ট অবৈধ ব্যবসায়ীদের গোপন তথ্য দিয়ে সতর্ক করে দেন বলেও দাবি করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গাড়িচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার মুঠোফোনে বলেন,
“আমি এখনো অফিস করছি। অফিস থেকে যেতে বললে আমি যাব। তদন্ত তো চলমান আছে—এতে সমস্যা কোথায়?”
তদন্ত কমিটির প্রধান মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলেন। তিনি বলেন,
“এটা কখন দেব বা দেব না, সেটা আমাদের বিষয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিবেদককে তদন্ত সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তবে প্রতিবেদক উপস্থিত হননি।
প্রতিবেদক চিঠি পাননি জানালে তিনি পাল্টা জবাবে বলেন,
“অনেকেই এই নিউজ করেছে, তাদের সবাইকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উখিয়া প্রতিনিধি জানান, তদন্ত দপ্তর থেকে তাদের কাছে কোনো ধরনের চিঠি পাঠানো হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ভুয়া ঠিকানায় চিঠি ইস্যু করে তদন্ত প্রক্রিয়ায় গড়িমসি করে অভিযুক্ত গাড়িচালকের পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি তিনি।

আবির হোসেন সান | কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৬:১৪ অপরাহ্ণ