রেঙ্গুন থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প আবছার–ওসমানের ইয়াবা নেটওয়ার্ক

আবির হোসেন সান | কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৮:৪২ অপরাহ্ণ

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের পুরাতন রাজধানী রেঙ্গুন (বর্তমানে ইয়াঙ্গুন) থেকে শুরু করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচার নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া গেছে।

এই নেটওয়ার্কের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আবছার ও তার আপন বোন জামাই মোহাম্মদ ওসমানের নাম।

 

সূত্র মতে, রেঙ্গুনে অবস্থান করেই প্রযুক্তির সহায়তায় আবছার নিয়ন্ত্রণ করছেন অবৈধ মাদক ইয়াবার বড় একটি সিন্ডিকেট। মিয়ানমার অংশের কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এপারের (বাংলাদেশ) পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন পালংখালী ইউনিয়নের ধামনখালী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ওসমান। তার অধীনে ২০ থেকে ২৫ জন সক্রিয় মাদক কারবারি কাজ করছে বলে জানা গেছে।
ওসমান ধামনখালী এলাকার মৃত অলি আহমেদের পুত্র। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি তিনি। ২০২১ সালে থাইংখালী ফুটবল মাঠ এলাকা থেকে ১০ হাজার ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া ২০২৩ সালে বালুখালী এলাকায় ৫০ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারীকে বিজিবি গ্রেফতার করলে সেই ঘটনাতেও ওসমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী গ্রাম ধামনখালী ইয়াবা পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে আলোচনায় আসে। এ সংক্রান্ত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর শালা-দুলাভাইয়ের এই কুখ্যাত নেটওয়ার্ক প্রকাশ্যে আসে।
প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আবছারের সঙ্গে নিয়মিত ইয়াবা লেনদেনে জড়িত ওসমান। তার মধ্যস্থতায় মাদকবহনকারীরা প্রথমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা মজুদ করে, পরে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
জানা গেছে, আবছারের পিতা ফজল আহমেদ কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিবারসহ বসবাস করছেন। ক্যাম্পের একটি সূত্রের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে আবছারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ওসমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমি কখনোই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এলাকায় কিছু শত্রু আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি গরুর খামার করি। আমার মানহানি করতেই এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ৬৪ বিজিবি (উখিয়া ব্যাটালিয়ন) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে বিজিবির কঠোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি পাহাড়ের মাটি পাচারেও জড়িত ওসমান। সম্প্রতি বনবিভাগের থাইংখালী বিট তার একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে।
সীমান্ত এলাকার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, থাইংখালীর ধামনখালী ও রহমতের বিল এলাকায় একাধিক ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব সিন্ডিকেট প্রথমে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এনে ওসমানের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেগুলো সময়মতো পৌঁছে দেওয়া হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা তার শ্বশুরবাড়িতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসমান এলাকায় বীরদর্পে চলাফেরা করেন। কখনো নিজেকে গরুর খামারি, কখনো বালু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন