চট্টগ্রাম, ২ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের কদমতলী মোরে গতকাল রাত ২টার দিকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যার শিকার হন একজন পুলিশ সদস্য মুবিন। সিটি কর্পোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাকের ধাক্কায় এই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। তার মাথা, নাক, কান, এবং মুখে মারাত্মক আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ হয়, মগজ গলতে থাকে।
দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু যুবক ৯৯৯ নম্বরে কল করে দ্রুত পুলিশ এবং চিকিৎসা সেবা পাঠানোর অনুরোধ জানান। এরপর, তারা আহত পুলিশ সদস্যকে সিএনজি যোগে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আহত ব্যক্তির স্মার্ট কার্ডে তার পরিচয় পাওয়া যায়, এবং জানা যায় তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ায়।
হাসপাতালে হোঁচট খাওয়া চিকিৎসা ব্যবস্থা
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, আহত ব্যক্তিকে প্রথমে এক রুম থেকে আরেক রুমে দৌড়াতে হয়। টিকেট নিতে গিয়ে হয়রানি পোহাতে হয়, এবং প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত তাকে চিকিৎসার জন্য যথাযথ স্থানে না নিয়ে ঘুরানো হয়। শেষমেশ তাকে ৫ তলা ২৮ নাম্বার ওয়ার্ডে প্রেরণ করা হয়, কিন্তু সেখানে কোনো ডাক্তার ছিল না। কিছু সময় পরে একমাত্র ডাক্তার এসে তাকে কিছু মেডিসিন লিখে দেন এবং আইসিইউ-তে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
আইসিইউতে সিটের অভাব
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আইসিইউ সিটের জন্য আবেদন করলেও, কর্তৃপক্ষ জানায় যে সেখানে কোনো সিট খালি নেই। আরও জানা যায়, আইসিইউ সিটের বেশিরভাগের ভেন্টিলেটর নষ্ট। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, এবং দুঃখজনকভাবে রাত ৩.৩০ মিনিটে, দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও, ওই পুলিশ সদস্যের মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনাটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা, অকার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো এবং চিকিৎসা সেবায় অবহেলা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। স্থানীয় জনগণ এবং আহত পুলিশ সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। তাদের মতে, এমন অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারকে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং চিকিৎসার মান নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দুর্ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যের পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর, তার পরিবারের সদস্যদের খবর পৌঁছানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় জনগণ এবং প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছেন যে সরকারি হাসপাতালে যেভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে, তা একেবারে অগ্রহণযোগ্য এবং মানবিকতার পরিপন্থী। তারা আরও বলেন, “এটি শুধুমাত্র আমাদের সবার জন্য নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও এক গভীর সংকটের চিত্র।”
বিশ্বস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দাবি
জানা গেছে, পুলিশ সদস্যের মৃত্যু সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা হতে পারে, যেখানে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার ফলে একজন মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। সকলের দাবি, সরকার যেন এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

মোস্তফা আন্জুম ফাহিম | চকরিয়া -কক্সবাজার
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ । ২:৪২ অপরাহ্ণ