ভূরুঙ্গামারীর কৃতি সন্তান এএসপি ফারুকের উদ্যোগে তরুপল্লব পাঠাগারে পাঠক সংবর্ধনা ও শীতবস্ত্র বিতরণ

মোঃ মাইদুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩:৩৮ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক সংগঠন তরুপল্লব পাঠাগারের উদ্যোগে পাঠক সংবর্ধনা প্রদান ও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় তরুপল্লব পাঠাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরের সর্বোচ্চ বই পাঠকারী পাঠকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে পাঠাগারের নিয়মিত পাঠকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভূরুঙ্গামারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আজিম উদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ, ভূরুঙ্গামারী থানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ ফারুক আহমেদ পিপিএম-সেবা, সভাপতি, তরুপল্লব পাঠাগার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

সংবর্ধনাপ্রাপ্ত পাঠকদের মধ্যে রয়েছেন, ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ২০টি বই পাঠের জন্য মোঃ আবির হোসেন (কারমাইকেল কলেজ, ইসলামের ইতিহাস, ১ম বর্ষ); ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৫৫টি বই পাঠের জন্য মোঃ রাহাত হোসেন (গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১ম বর্ষ); ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ২২টি বই পাঠের জন্য মোঃ হায়দার আলী (ফার্মেসি ব্যবসায়ী, গীতিকবি ও শিল্পী), যিনি এ সময় তাঁর রচিত একটি বই পাঠাগারে প্রদান করেন; ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ২৭টি বই পাঠের জন্য খন্দকার নাহিদ হোসেন (ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ, এইচএসসি ১ম বর্ষ, বিজ্ঞান বিভাগ); ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ৫৩টি বই পাঠের জন্য মোঃ আনিস আলী (হামিদা খানম দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, নবম শ্রেণি, বিজ্ঞান বিভাগ); ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ৩১টি বই পাঠের জন্য মোঃ আবির হোসেন (ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ, এইচএসসি ১ম বর্ষ, মানবিক বিভাগ), এবং ২০২৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭টি বই পাঠের জন্য মোঃ রাকিবুল হাসান (ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ, এইচএসসি ১ম বর্ষ, মানবিক বিভাগ)।

২০২১ সালের সর্বোচ্চ বই পাঠকারী মোঃ রাহাত হোসেন বলেন, তরুপল্লব পাঠাগারে নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে তিনি গণিত অলিম্পিয়াড সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে পুরস্কৃত হন। তিনি বলেন, এই পাঠাগার তাঁর শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যান্য পাঠকরাও পাঠাগারে বই পড়ে উপকৃত হওয়ার কথা জানান।

এর আগে সকাল ৯টায় তরুপল্লব পাঠাগারের উদ্যোগে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও শীতার্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রসার ও আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে তরুপল্লব পাঠাগারের যাত্রা শুরু হয়। পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন