ফরিদপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচার পরিবারের নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘ ২৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে আবুল কাশেম মোল্যা (৪২) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আবুল কাশেম মোল্যা ফরিদপুর শহরতলীর বিলমামুদপুর হাজী ভ্রমরদি বেপারীডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা ও আবুল হাশেমের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই এলাকার আফজাল মোল্যা (৫৫), তাঁর ছেলে তামিম মোল্যাসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আবুল কাশেমের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় লোহার পেরেক লাগানো কাঠের বস্তু দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তাঁর বাম পায়ে মারাত্মক জখম হয় এবং পেরেক ঢুকে যায়।
পরবর্তীতে ওই পায়ে সংক্রমণ দেখা দিলে ধীরে ধীরে পচন ধরে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ফরিদপুর এবং পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হলেও অর্থ সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারি তাঁকে আবার ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির মধ্যেই অসহনীয় যন্ত্রণায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই রাজু মোল্যা বলেন, “আমার ভাইকে কয়েকজন মিলে পায়ের নিচে কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের কারণে নার্ভ নষ্ট হয়ে যায়, রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পা পচে যায়। আমরা ঢাকায় বারডেম হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের সবার বিচার চাই।”
নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। স্ত্রী ফরিদা পারভীন সন্তানদের জড়িয়ে ধরে আহাজারি করতে থাকেন। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের স্ত্রী ফরিদা পারভীন অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। থানায় গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করা হয়েছে। আমরা একজন আসামিকে ধরিয়ে দিলেও বলা হয়েছে থানায় মামলা হবে না, কোর্টে যেতে হবে। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না? আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “মৃত্যু সনদে আঘাতজনিত মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট না থাকায় আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে একজনকে আটক করে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আফজাল মোল্যা পলাতক থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইশতিয়াক ইসলাম
ফরিদপুর সদর,ফরিদপুর

ইশতিয়াক ইসলাম।ফরিদপুর সদর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ