নগরকান্দায় খেলাফতের এমপি প্রার্থীর গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি ছাত্রদল নেতার

ইশতিয়াক ইসলাম।ফরিদপুর সদর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তাকে এলাকায় প্রবেশ করতে দিলে গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিসংবলিত একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে কলরেকর্ডটি ভাইরাল হওয়ার পর পুরো নির্বাচনী এলাকায় সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফোনালাপটি নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার এবং একই এলাকার রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা শোয়াইব ইসলামের মধ্যে হয়েছে।
জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে শোয়াইব ইসলাম ধলা হুজুরকে পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় আনার উদ্যোগ নেন। তবে ওই এলাকায় তার আগমন নিয়ে আপত্তি জানান রবি মেম্বার। তিনি পুরাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।
ভাইরাল অডিওতে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ভোট দিতে চাইলে ভোট দিতে পারে, কিন্তু ওই এলাকায় ধলা হুজুরকে আনার প্রয়োজন নেই। একপর্যায়ে তিনি হুমকিস্বরূপ বলেন, বনগ্রাম মোড়ে ধলা হুজুর তো দূরের কথা, তার বাবাও আসতে পারবে না, এলে গাড়িতে আগুন দেওয়া হবে।
এই কলরেকর্ড প্রকাশ্যে আসার পর ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের হুমকি নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, শোয়াইব ইসলাম তার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোর করে কর্মসূচি করতে চাচ্ছিলেন, যা ওই পরিবার চায়নি। বিষয়টি জানানো হলে তিনি শুধু এটুকুই বলেছেন—বাড়ির মালিকের সম্মতি ছাড়া সেখানে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই।
অন্যদিকে, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনী মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদে নেই। অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে নিজেকে বিএনপি সমর্থক দাবি করলেও দলের পক্ষ থেকে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরকান্দা–সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হুমকির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হলে তা গ্রহণ করা হবে এবং এলাকায় রাতের টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহরাজ শারবীন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তা নির্বাচন সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হবে।

 

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন