গাজীপুরের কাপাসিয়ায় প্রকাশ্যভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার নামে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতের মাহফিলকে কেন্দ্র করে শতাধিক আওয়ামী লীগের পদধারি নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে ১৭ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে, কাপাসিয়া উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ঘিঘাট গ্রামে। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বক্তব্য ও দলীয় যোগদান নিয়ে এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ধর্মীয় আচারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানো সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। তাদের ভাষ্য, কাপাসিয়ায় যদি এভাবে আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ ‘রিসাইকেল ভার্সন’ বিএনপিতে আশ্রয় পেতে থাকে, তবে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই আন্দোলনের চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কায় বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ও পদধারি নেতাদের দলে ভিড়াচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—যোগদানকৃত অধিকাংশ নেতাকর্মীর বক্তব্য জুলাই বিপ্লববিরোধী। তারা প্রকাশ্যে দাবি করেন, “জুলাই বিপ্লবের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিলে দেশের স্বাধীনতা ও সংবিধান মুছে যাবে।”
সমালোচকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু ইতিহাস বিকৃতিই নয়, বরং জুলাইয়ের চেতনাকে সরাসরি অস্বীকার করার শামিল।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আড়ালে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি আচরণবিধি লঙ্ঘন কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসন জানায়, “এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। তথ্য পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—প্রকাশ্য কর্মসূচি, ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী থাকার পরও প্রশাসনের ‘তথ্য না থাকা’ বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য?
এ নিয়ে কাপাসিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৭:১৬ অপরাহ্ণ