ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল হক তালুকদারকে জামায়াত নেতা পরিচয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদানের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ–হিজলা–কাজিরহাট) আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী, চরমোনাই পীরের ভাই ও দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এছহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করেন, আলিমাবাদ ইউনিয়নের জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলাম তালুকদার ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়,
“বরিশাল-৪ আসনের হাতপাখার প্রার্থীর হাতে হাত রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করলেন আলিমাবাদ ইউনিয়নের জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলাম তালুকদার।”
পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
যুবলীগের কমিটিতে শহিদুলের নাম
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি অনুমোদন পায় ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। ২১ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটিতে ২ নম্বর ক্রমিকে শহিদুল হক তালুকদারের নাম রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত যুবলীগ নেতা হিসেবেই পরিচিত।
ফলে একজন আলোচিত যুবলীগ নেতাকে ‘জামায়াত নেতা’ পরিচয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের ঘোষণা কীভাবে দেওয়া হলো—তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ
আলিমাবাদের এক প্রবীণ ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, শহিদুল তালুকদার একজন সক্রিয় যুবলীগ ক্যাডার ছিলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাকে দলে নেওয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট রাজনীতির লোকদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একজন তরুণ জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা বলেন, ইসলামী আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য প্রার্থী কীভাবে একজন পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতাকে দলে নেন এবং তাকে জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন—তা বিশ্বাসযোগ্যতা সংকট তৈরি করেছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নেতা যদি প্রকাশ্যে এমন দাবি করেন, তাহলে দলের ভেতরের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।
ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতির বক্তব্য
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি গাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,
“শহিদুল তালুকদারের বিষয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে এখনো তার যোগদান আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তিনি আলিমাবাদ ইউনিয়নের স্থানীয় নেতাদের কাছে এয়ানত দিয়ে যোগদানের চেষ্টা করেছেন। তবে তার কথাবার্তা এখনো অসংলগ্ন। আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৫:২৭ অপরাহ্ণ