ঢাকা: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের তিন শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় কোন্ডা ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে তাদের বরণ করেন ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম।
জামায়াতে যোগ দেওয়া উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কোন্ডা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ইসাকুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি বাহাউদ্দিন, কোন্ডা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য আব্দুল খালেক, শ্রমিকদলের নেতা আতাউর রহমান এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা হাজী আনোয়ার হোসেন ফালান।
জামায়াতে যোগ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে যুবদলের সাবেক নেতা ইসাকুর রহমান আমার দেশকে বলেন, বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের শিকার হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। যৌথবাহিনী তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি ও তার ছেলে একাধিক মামলার আসামি। দলের জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করলেও বিএনপিতে তার অবদানের কোনো মূল্যায়ন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়ে দলের নেতারা দল সাজিয়েছেন। আমি বৈষম্যের শিকার হয়েছি। ২০০১ সালে কোন্ডা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি, ২০০৩ সালে সভাপতি হয়েছি। দুঃসময়ে দলের পক্ষে কাজ করে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এরপরও দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি। বাধ্য হয়েই জামায়াতে যোগ দিয়েছি।”
যুবদলের আরেক সাবেক নেতা বাহাউদ্দিন বলেন, “দলের পক্ষে কাজ করেও সম্মান পাইনি। বর্তমানে দলে নতুনদের কদর বেশি। বিএনপিতে সম্মান না থাকায় জামায়াতে যোগ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে কোন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা লুৎফর রহমান আমার দেশকে বলেন, কেরানীগঞ্জে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেজাউল কবির পলের অনুসারীরা বিএনপির কমিটিতে জায়গা পাননি। দীর্ঘদিন ধরে দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। ফলে ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১১:৪৩ অপরাহ্ণ