সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রতিবেদককে গুলি করে হত্যার হুমকি দিলেন ট্রাফিক পুলিশ

আবির হোসেন সান (কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি)
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৮:২৭ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ |
কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন না করে একটি চায়ের দোকানে বসে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকিমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টসহ দুজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রাসেল দায়িত্বহীন ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এক পর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “স্যার, ওইটা আমি হলে তো গুলি করে রাস্তায় ফেলে দিতাম।”
এ সময় চায়ের দোকানদার অস্ত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “ভার্সিটির পরিত্যক্ত জায়গায় অস্ত্র আছে। এসপি স্যার কি আমার র‍্যাংক ফেলাইতে পারবে? আমি পিঠিয়ে এখান থেকে ট্রান্সফার হব।”

অডিও কথোপকথনের এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত আরেক পুলিশ সদস্য অশালীন ভাষায় মন্তব্য করেন। পরে ট্রাফিক পুলিশ সুভাষকে বলতে শোনা যায়, “কক্সবাজারটাকে নষ্ট করছে সাংবাদিকরা।”
এছাড়া সার্জেন্ট রাসেল সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে বলেন, “বালের সাংবাদিক, এরা সাংবাদিক নাকি? মোবাইল সাংবাদিক এগুলা। কক্সবাজারে বেশি জ্বালাইলে এদেরকে আমি জ্বালাইছি।”

অডিওতে ওঠে আসা অভিযোগের বিষয়ে সার্জেন্ট রাসেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, উক্ত কথাগুলো তিনি অন্য প্রসঙ্গে বলেছেন।
অন্যদিকে সার্জেন্ট সুভাষ জানান, তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি। তবে ভাইরাল হওয়া অডিওতে দুজনের কণ্ঠই স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

অডিওতে থাকা বক্তব্যগুলো দায়িত্বশীল আচরণের চরম ঘাটতি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি হুমকির বহিঃপ্রকাশ—এমন মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকরা।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে সাংবাদিক সংস্থা কক্সবাজার জেলা আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র নিন্দা জানান। মানববন্ধনে সংবাদকর্মী সালাহ উদ্দিন বলেন, “সংবাদ প্রকাশের জেরে দেশ-বিদেশ পত্রিকার প্রতিবেদক রাকিব আমীরকে ট্রাফিক পুলিশের হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) অলক বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো অপরাধমূলক কাজ হয়ে থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অডিও রেকর্ড নিয়ে অফিসে এসে পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবগত করলে বিষয়টি আরও ভালোভাবে দেখা যাবে।”

এ ঘটনায় কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকরা গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন