যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে বালু লুট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ২:১৪ অপরাহ্ণ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রাতের আঁধারে অবৈধ বালু উত্তোলন: নদীভাঙনের ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদ থেকে রাতের বেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ৪–৫টি কার্গো ও ১০–১২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে রাতভর বালু তোলা হয়, যা ভোর হওয়ার আগেই সরিয়ে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কার্যক্রমের কারণে নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে এবং আশপাশের বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আটুলিয়া, পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও প্রতাপনগরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যদিও প্রশাসনের অভিযান হলে কিছুদিন বন্ধ থাকে এবং পরে আবার শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী চলতি বছর দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোকে বালুমহালের বাইরে রাখা হয়েছিল। শুধু আশাশুনির হিজলদিয়া মৌজায় পাঁচ একর জায়গা বালুমহাল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, ইজারাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ‘গাজী এন্টারপ্রাইজ’ নির্ধারিত এলাকার বাইরে পুরো নদী থেকে বালু তুলছে। অধিক মুনাফার জন্য রাতের আঁধারে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের কয়েকজন যুবনেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ। তবে অভিযুক্তরা ফোনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযানের বিষয়ে নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদী ও উপকূলীয় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রবণতা বন্ধ না হলে নদীভাঙন আরও বাড়বে এবং উপকূল রক্ষা বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে নদীভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা যায়।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন