গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের গাছা এলাকায় ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফরিদা ইয়াসমিন নামে এক নারী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন এবং এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলমেশ্বর এলাকার বাসিন্দা। গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি বাসায় অবস্থানকালে গাছা থানা পুলিশ তার ছেলে রাহুল খানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করা হলেও পুলিশ নানা ধরনের তালবাহানা করে এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে চালান করা হয়। যে ডাকাতি মামলায় তার ছেলেকে আসামি করা হয়েছে, সেই মামলার মালামাল ঘটনার প্রায় ১৪ দিন আগেই এসআই আনোয়ারের নেতৃত্বে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ফরিদা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, ওই সময় তার ছেলের সঙ্গে আরও তিনজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ তার ছেলে রাহুল খানের সঙ্গে ওই ডাকাতি বা উদ্ধার হওয়া মালামালের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে এলাকার বিএনপি নেতা ও গাজীপুর গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ ফারুক হোসেন খানের সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তার অভিযোগ, এই বিরোধের জের ধরেই তার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে তারা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন খান তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন ফেক আইডি খুলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার আপত্তিকর ও পর্নোগ্রাফিক ছবি তৈরি করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় তিনি গাজীপুর আদালতে একটি পর্নোগ্রাফি মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর- ১৮৬০/২০২৬ এবং ধারা- ৫০৬।
মামলায় আসামি করা হয়েছে—
১) মোঃ ফারুক হোসেন খান (৪২), পিতা: মৃত সালামত খান, সাং: পশ্চিম কলমেশ্বর, মেম্বার মার্কেট।
২) হৃদয় খান (২৮), পিতা: খান, সাং: দক্ষিণ কলমেশ্বর।
৩) মুসলিম মন্ডল (৩৫), পিতা: আফসার উদ্দিন মন্ডল, সাং: ওয়ার্ড নং-৩৫, পোস্ট অফিস: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, থানা: গাছা, গাজীপুর মহানগর।
এছাড়াও মামলায় আরও তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে নিজের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন উল্লেখ করে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “আমি এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও ভয় পাচ্ছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ ফারুক হোসেন খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬ । ২:৪৪ অপরাহ্ণ