শিরোনাম: ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হয়, প্রশ্ন তুললেন জামায়াত নেতা আজহার

নিজস্ব প্রতিবেদক | জাতীয় সংসদ
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ৮:০২ অপরাহ্ণ

শিরোনাম: ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হয়, প্রশ্ন তুললেন জামায়াত নেতা আজহার

১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল দাবি করে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা হয়। বিএনপি দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের দল; অথচ বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, আর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ১৯৭১ সালে। তাহলে বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে?’

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা এসব কথা বলেন।

নিজের যুক্তির ব্যাখ্যা দিয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এটা (বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল) কীভাবে আমি মূল্যায়ন করব? বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধা আছেন, এটা আপনি বলতে পারেন। তদ্রূপ জামায়াতে ইসলামীতেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন।’

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদের বিরোধিতা

বক্তব্যের শুরুতে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জানানোর জন্য আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দেব কীভাবে? এই প্রেসিডেন্ট কে? তিনি আওয়ামী লীগের দোসর।’

আওয়ামী লীগ শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আমরা ফ্যাসিস্ট বলছি, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হওয়ার সুযোগ কীভাবে পেল—আমাদের দেশের আইন আর ভারতের সরাসরি সহযোগিতায়। আজকে সে আওয়ামী লীগ ভারতেই পালিয়ে গেছে। সেই আওয়ামী লীগের তৈরি করা ফ্যাসিস্টের প্রেসিডেন্টকে আমি কীভাবে সমর্থন করতে পারি?’

সেই ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দল (বিএনপি) কীভাবে ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানায়, সেই প্রশ্নও তোলেন আজহার। তিনি জানতে চান, ‘তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে আপনারা কোনো ব্যক্তি, কোনো দল অথবা কোনো শক্তিকে খুশি করতে চান?’

বিএনপির ‘দৈন্য’ ও সংরক্ষিত আসনে আ’লীগ নেত্রী

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন জামায়াতের এই এমপি। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে বলতে চাই, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, তাদের মহিলা নেত্রীরা রাজপথে আন্দোলন করেছেন এবং তাঁদের অনেক ভূমিকা আছে। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম যে তাদের সংরক্ষিত নারী আসনে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদককে মনোনয়ন দিয়েছেন। কেন? এটা কি আপনাদের দৈন্যের কারণে? নাকি আপনারা কোনো শক্তিকে খুশি করতে চান, তাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় থাকতে চান? সে প্রশ্নের জবাব আপনারা দেবেন। এ প্রশ্ন জনগণের সামনে।’

নিরাপত্তা কার্ড চালুর দাবি ও হামলার অভিযোগ

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমপি ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তার অভাব রয়েছে দাবি করে সরকারি দলের উদ্দেশে আজহার বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে হেয় করার জন্য কথা বলছি না। একবার চিন্তা করেন। দেশপ্রেমিক বলি আমরা, গণতান্ত্রিক শক্তি বলি আমরা, কিন্তু আজকে আমরা এমপিরা স্বাধীনভাবে চলতে পারছি না। আজকে আমাদের আক্রমণ করা হচ্ছে, অনেক কর্মীকে আক্রমণ করা হচ্ছে।’

বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় সরকারি কাজ করতে গিয়ে অনেকে বিএনপির কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। এখনো ভয় দেখানো হচ্ছে। এ জন্য অনেকে হাসতে হাসতে বলে, এত কার্ড পাইলাম, এখন “নিরাপত্তা কার্ড”-এর ব্যবস্থা করেন।’

ট্রাইব্যুনাল, ৫ আগস্ট ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

উল্লেখ্য, এ টি এম আজহারুল ইসলাম একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি নিজেই বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম। যেকোনো মুহূর্তে আমার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হতো। ঠিক সেই মুহূর্তে চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লব বলি অথবা অভ্যুত্থান বলি, তার মাধ্যমে আমার মুক্তির পথ সুগম হয়।’ এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন হঠাৎ করে হয়েছে, এটা যেমন ঠিক নয়; তেমনই জুলাই আন্দোলন সরকার পরিবর্তনের জন্য হয়নি। একটা সরকার যাবে, আরেকটা সরকার আসবে—এই আন্দোলন সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না। এটা পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল। পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল বলেই ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আমরা সুপারিশ দাঁড় করিয়েছিলাম। যার মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে।’

জিয়া ও খালেদাকে স্মরণ

বক্তব্যের শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এ টি এম আজহার।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া অমর হয়ে থাকবেন তিনটি কারণে। তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি ঐক্যের রাজনীতি করেছিলেন এবং তিনি আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন। তাঁর সাতই নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আধিপত্যবাদমুক্ত হয়।’

খালেদা জিয়ার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া, তিনি অমর হয়ে থাকবেন। তিনি বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, তিনি জনগণের কাছে খেতাব পেয়েছেন আপসহীন নেত্রী। তিনিও ঐক্যের রাজনীতি করেছেন।’

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন