দেশে আবারও বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে। ছয়টি বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানির আয়োজন করে।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া গ্রাহক প্রতিনিধি, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয় চলছে। এসব বন্ধ না করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি খরচ চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। বিশেষ করে লাইফলাইন গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যের সুবিধা কমানোর প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
গণশুনানিতে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় পাঁচ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহক। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা ধাপ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার কারণে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করলে দাম না বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।
শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের মূল্য বাড়লে উৎপাদন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে স্টিলসহ বিভিন্ন শিল্পখাত বড় সংকটে পড়বে।
গণশুনানিতে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি আলাদা হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও বিইআরসির কারিগরি কমিটি গড়ে প্রতি ইউনিটে এক টাকা ২৫ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিইআরসি জানিয়েছে, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাজিদ বিন বশির, ঢাকা
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ । ৫:৫৮ অপরাহ্ণ