পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প চালু হলেও এখনো সরাসরি রেল সুবিধার বাইরে রয়েছে শরীয়তপুর জেলা। ফলে জেলার মানুষ দ্রুত, নিরাপদ ও স্বল্প খরচে যাতায়াত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিল্পায়ন ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা-শরীয়তপুর-বরিশাল রেল যোগাযোগ চালুর দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শরীয়তপুরের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিছিলটি পৌরসভা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা সরকারি গণগ্রন্থাগার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ইমরান আল নাজির, আরিয়ান আহমেদ সাগর, অ্যাডভোকেট মোসলেম খান ও সুমনা খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাহবুব আলম জয়, মিথুন মাঝি, ইয়াসিন মুন্সি, তাসকিন আহমেদ রায়হান, স্বপ্নীল মাদবর, শুরভী, কান্তা ও ফাতেমা ইয়াসমিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিক্ষোভ মিছিলের প্রধান সমন্বয়কারী ইমরান আল নাজির বলেন,
“দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য রেললাইন এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি সময়ের দাবি। যেই ট্রেন শরীয়তপুরের মানুষকে ঢাকা নিয়ে যেতে পারবে না, সেই ট্রেনকে আমরা ঢাকায় ঢুকতে দিবো না।”
তিনি আরও বলেন,
“এবার আওয়াজ তুলুন ঢাকা-শরীয়তপুর-বরিশাল রেললাইন লাগবে। রেললাইন কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের অধিকার। এই অধিকার আদায়ে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় শরীয়তপুর কিন্তু দক্ষিণ অঞ্চলের হরমুজ প্রণালী, রিমোট চাপ দিলে সব স্টপ হয়ে যাবে।”
আরিয়ান আহমেদ সাগর বলেন,
“শরীয়তপুরবাসী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। রেল যোগাযোগ চালু হলে জেলার অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। রেল যোগাযোগ না থাকায় শরীয়তপুর এখনো পিছিয়ে থাকা জেলার মতো রয়েছে। আমরা আশা করি, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপু বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরে রেল সংযোগ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।”
অ্যাডভোকেট মোসলেম খান বলেন,
“সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় দক্ষিণাঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত রেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।”
সুমনা খান বলেন,
“নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেল যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি।”
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ঢাকা-শরীয়তপুর-বরিশাল রেললাইন বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও কমে আসবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

মো: নুরজামাল ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ । ১১:১৮ অপরাহ্ণ