লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলমের বিরুদ্ধে ভাইসহ স্বজনদের সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পত্তি ভোগদখলের অভিযোগ এনে শাহ আলমের বিরুদ্ধে তার ভাতিজা সোহেল সামাদ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পুলিশ হেডকোয়ার্টার এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হককে।
তদন্তে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং গোপন ও প্রকাশ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে গত ২১ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। সেখানে অভিযোগকারীর বাবার সম্পত্তি, ওয়ারিশি সম্পদ, বাগান, বাড়ি, পুকুর, জমি এবং বাজারে থাকা দোকানের ভাড়া এককভাবে ভোগদখলের বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী গত ১১ মে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়াকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দেশনার পরও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারী সোহেল সামাদ, রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকার চরকাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে অভিযুক্ত শাহ আলম প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি ভোগ করছেন।
অভিযুক্ত শাহ আলম বর্তমানে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানায় কর্মরত রয়েছেন।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “চিঠি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে স্থানীয় জনগনের।

মো ইউনুচ (লক্ষ্মীপুর) রায়পুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ । ৯:১৫ অপরাহ্ণ