দেশের প্রথম গুচ্ছগ্রাম হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেওয়া লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গুচ্ছগ্রাম আজ চরম অবহেলা ও নাগরিক সংকটে জর্জরিত। এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক এই পুনর্বাসন প্রকল্পটি দীর্ঘদিন সরকারি তদারকির অভাবে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা নিজ হাতে মাটি কেটে এ গুচ্ছগ্রামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এটি দেশের প্রথম গুচ্ছগ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
পরবর্তীতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গুচ্ছগ্রামটিকে আধুনিক মডেল কলোনিতে রূপান্তর করা হয়। এখানে ২৮টি পরিবারকে পুনর্বাসনের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ, কমিউনিটি হল, মার্কেট এবং শিশুদের জন্য বিনোদন পার্ক।
কিন্তু বর্তমানে সেই গৌরবময় প্রকল্পের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় সব নলকূপ ও পানির কল বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে সুপেয় পানির জন্য নারী ও শিশুদের দূর-দূরান্তে যেতে হচ্ছে। শিশু পার্কটি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় সেখানে ঝোপঝাড় ও আগাছা জন্মেছে। খেলার দোলনাসহ বিভিন্ন রাইড ভেঙে পড়ে আছে, আর মূল্যবান সরকারি সরঞ্জামগুলো অযত্নে নষ্ট হচ্ছে।
এছাড়া আবর্জনায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুচ্ছগ্রামের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও অবকাঠামোরও বেহাল দশা। পাশের একটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে প্লট ও জমি সংক্রান্ত বিরোধও প্রকল্পটির স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দেশের প্রথম গুচ্ছগ্রাম হিসেবে চর পোড়াগাছার ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। অথচ যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি আজ ধ্বংসের মুখে। দ্রুত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করা, শিশু পার্ক সংস্কার, ড্রেনেজ পরিষ্কার এবং সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, চর পোড়াগাছা গুচ্ছগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের প্রথম গুচ্ছগ্রামটি আবারও তার হারানো ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফিরে পেতে পারে।

মোহাম্মদ জাকির শাহ লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ । ৬:৪৮ অপরাহ্ণ