ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন চুক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এ চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং এক ধরনের “আত্মসমর্পণ”।
ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর Adam Schiff সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট বলছেন যুদ্ধ শেষ। আমি আশা করি তিনি ঠিকই বলছেন। কিন্তু আমরা এ কথা আগেও শুনেছি, আর তার সঙ্গে ছিল অসংখ্য অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি।”
শিফ আরও অভিযোগ করেন, নতুন এই যুদ্ধ শুরু হলেও তার ব্যয় কমানো হয়নি এবং এর ফলে মার্কিন জনগণের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেসম্যান Seth Moulton সম্ভাব্য চুক্তিটিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে এটিকে “মূলত একটি আত্মসমর্পণ দলিল” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এমএস নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মল্টন বলেন, “এটি একটি ভয়াবহ চুক্তি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাঠানো আত্মসমর্পণের দলিল বলেই আমি এটিকে দেখি।”
তার দাবি, এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে মার্কিন করদাতাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং ১৪ জন আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছেন। এত বড় মূল্য চোকানোর পর যে চুক্তি সামনে আসছে, তা যুদ্ধ শুরুর আগে বিদ্যমান পরিস্থিতিকেই কার্যত পুনরায় ফিরিয়ে আনছে। তাই এটিকে বিজয় হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সমালোচনার বিপরীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump চুক্তিটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর করা জেসিপিওএ (JCPOA) চুক্তির সমালোচনা করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ওবামা প্রশাসনের সেই চুক্তি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের একটি “সহজ ও সুন্দর পথ” তৈরি করেছিল। তার দাবি, ওই চুক্তি বাতিল না করা হলে ইরান বহু আগেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং ব্যবহার করতে সক্ষম হতো।
অপরদিকে, ইরানের সঙ্গে তার প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিকে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে “একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর” হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং দেশটি আর এমন অস্ত্রের প্রতি আগ্রহও দেখাচ্ছে না।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা, অন্যদিকে ট্রাম্পের দৃঢ় সমর্থন, সম্ভাব্য চুক্তিটিকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সূত্র: আল জাজিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ । ৩:৩৬ অপরাহ্ণ