কমলনগরে ষড়যন্ত্র মামলার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে

মোহাম্মদ জাকির শাহ লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ । ১০:৪২ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মুন্সিরহাট বাজার জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি দখলের অভিযোগে দায়ের করা ষড়যন্ত্র মামলার
প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা। তারা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের মুন্সিরহাট বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ৫২ জন ঘর মালিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর, সেক্রেটারি মাওলানা ইবরাহীম, ঘর মালিক মুফতি শরিফুল ইসলাম, মকবুল আহমেদ বকুল, শাজাহান কামাল ও শাহাদাত হোসেন।

মানববন্ধনে বক্তারা নিজেদেরকে দোকান ভিটির বৈধ ক্রেতা দাবি করে বলেন, প্রায় ৬০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মুন্সিরহাট বাজারের শুরুতে বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মৌলভী ছিদ্দিক উল্যা ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান ভিটি বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। এরপর থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। এরমধ্যে বিক্রেতা ছিদ্দিক উল্লাহ মুন্সি মৃত্যুবরর করেন।কিন্তু জীবদ্দশায় বিভিন্ন অজুহাতে জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না করে বিক্রেতা গোপনে জমিটি স্থানীয় মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সম্প্রতি বিষয়টি আমরা জানতে পেরে সমাধানের উদ্যোগ নিলে বিক্রেতার ছেলে ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সমাধান না করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করছে বিক্রেতার ছেলে বাবুল মুন্সি।
বক্তারা আরও বলেন, এর আগেও একই বিষয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং বর্তমানে এ সংক্রান্ত দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ক্রয়কৃত দোকান ভিটিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন দাবি করে মামলা প্রত্যাহার এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১১ মে লক্ষ্মীপুর যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে মুন্সিরহাট বাজার জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল বাতেন বাবুল ৮৭ জন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভূমি প্রশাসনকে বিবাদী করে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, চর মার্টিন মৌজার ২.৩৮ একর জমির মধ্যে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশ জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করা হয় এবং বর্তমানে ওই জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন