আমরা অন্যের দেশ গড়তে পারলে নিজেরটাও পারব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ । ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা একসঙ্গে দুটি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তারা যেমন কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন, তেমনি যে দেশে বসবাস ও কাজ করছেন, সেই দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

রোববার রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশটির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি অন্য একটি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি, তাহলে নিজেদের দেশকে আরও এগিয়ে নিতে পারব না কেন? এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

সুধী সমাবেশে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নানা সমস্যার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান জানান, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে আটকে থাকা প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি কর্মীর সমস্যা সমাধানের বিষয়টি তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনায় উত্থাপন করবেন।

তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া প্রযুক্তি খাতে বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আমরা চাই মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ান।”

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অদক্ষ অবস্থায় বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া উচিত নয়। বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার ওপরও জোর দেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি মোট ছয়টি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যদিও দক্ষ ভাষা শিক্ষকের সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এর আগে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সের ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে। সেখানে তাকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনারের সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। বিমানবন্দর থেকে শাংগ্রি-লা হোটেল পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিনিটের সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

পরে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে স্বাগত জানাতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি জড়ো হন। রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে মালয়েশিয়া বিএনপির নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, শ্রমিক এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মালয়েশিয়া সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন রয়েছে। সফরকালে পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা হলো দীর্ঘদিনের শ্রমবাজার সংকট নিরসন, জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট ভাঙা, বিমান টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা এবং প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও সরকারি খরচে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

প্রবাসীদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ সুগম করবে।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন