জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় সংঘটিত প্রায় ১৯ লাখ টাকার চুরির ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চুরির রহস্য উদঘাটন, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২), সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম (৩০), শহরের আমলাপাড়া এলাকার ভ্যানচালক চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), পৌর শহরের গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া (৩৯) এবং শহরের কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯)।
তাদের মধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী প্রায় সাত মাস ধরে জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তারা যথাক্রমে মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৩০ জুন বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তার স্ত্রী বিচারক নুসরাত জেরিন জেনীকে জামথল ঘাটে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন। রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি মূল দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও হীরার আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম. ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের অপর একটি বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই রাতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, “গ্রেফতার সুমন ও বিপ্লব গত কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তারা স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো পদে বা সাংগঠনিক দায়িত্বে নেই।”
জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনা উদঘাটন, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬ । ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ