রায়পুরে টিটেনাসের ইনজেকশনের বদলে জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ, অসুস্থ কিশোরী।

মো: ইউনুস রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ । ১২:১৫ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর বাজারে টিটেনাস (টিটি) ইনজেকশনের পরিবর্তে ভুলবশত জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইশরাত জাহান (১৩) নামে এক কিশোরী অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়ার জন্য ইশরাত জাহানকে তার নানার বাড়ির এলাকার গাজীনগর বাজারের দীপ্ত মেডিকেল হলে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মচারী তপন (৫১) টিটেনাস ইনজেকশনের পরিবর্তে ভুল করে ‘সোমাজেট’ নামে জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইশরাত বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা, রায়পুর পৌর শহরের বাসিন্দা সফিউদ্দীন নয়ন বলেন, “আমার মেয়েকে টিটেনাস ইনজেকশন দেওয়ার জন্য প্রদীপ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। কিন্তু টিটেনাসের পরিবর্তে জন্মনিয়ন্ত্রণের ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ঘটনাটি নিয়ে রায়পুর পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজী আমার নাম ভাঙিয়ে অভিযুক্ত প্রদীপের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজী বলেন, “প্রদীপের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পাওনা টাকা নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু প্রদীপের কাছ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “প্রদীপ নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিলেও তিনি প্রকৃত চিকিৎসক নন। ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের কারণেই মেয়েটি অসুস্থ হয়েছে। এমন ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অভিযুক্ত প্রদীপ চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এটি আমাদের ভুল হয়েছে। একসঙ্গে টিটেনাস ও সোমাজেট ইনজেকশন বের করা হয়েছিল। কর্মচারী তপন না বুঝে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগ করেছে। পরে বাজার কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। এ বিষয়ে বাজার কমিটির সঙ্গেও কথা বলতে পারেন।”

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. বাহারুল আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমি এখনই জেনেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন