দেবিদ্বার ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মানবন্ধন হত্যা মামলার আসামী চেয়ারম্যানের যোগদানপত্র প্রত্যাহারের দাবি।

মোঃ মাসুদ রানা - বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ । ৯:১৩ অপরাহ্ণ

৫ আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সকল ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটল।

দেবিদ্বারে এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, “এই কর্মসূচি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং এটি নীতি, আদর্শ, জবাবদিহি এবং শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার একটি নৈতিক দাবি।”

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণআন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্র, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সবার ভূমিকা হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নীতিনিষ্ঠ।

সাইদুর রহমান লিটল বলেন, “যারা জাতীয় পর্যায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমরা তাদের অবদানকে সম্মান করি। কিন্তু গণতন্ত্রে সম্মান মানে প্রশ্নহীনতা নয়। জনগণের প্রশ্ন করার অধিকারই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং নেতৃত্বের জবাবদিহিতার ভিত্তি।”

দেবিদ্বারের স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে যে নীতি ও আদর্শের কথা বলা হচ্ছে, তার প্রতিফলন স্থানীয় পর্যায়েও সমানভাবে থাকা জরুরি। জনগণ জানতে চায়—নীতি কি সব জায়গায় একইভাবে প্রয়োগ হচ্ছে?

তিনি ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মাসুদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তাকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে যে অভিযোগ, মামলা ও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “বিচার হবে আদালতের মাধ্যমে, কিন্তু জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় যেন আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড তৈরি না করে।”

সাইদুর রহমান লিটল আরও বলেন, “সংসদে একটি নীতি এবং নিজ এলাকায় আরেকটি নীতি—এ ধরনের বৈপরীত্য জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করে। নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা হয় কঠিন সময়ে, এবং সেই পরীক্ষায় নীতি ও আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়।”

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনমনে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচারাধীন মামলাগুলোর যথাযথ অগ্রগতি এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগ কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা। এই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

বক্তব্যের তিনি বলেন, “নীতি হবে এক, আইন হবে এক এবং বিচার হবে সবার জন্য সমান। ইতিহাস শুধু বক্তব্য মনে রাখে না, ইতিহাস মনে রাখে কঠিন সময়ে কে কতটা নীতির পক্ষে দাঁড়িয়েছিল।”

দেবিদ্বারের এই কর্মসূচি তাই শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; বরং এটি ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে নীতি, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনমত প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ​৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে নিহত রুবেল হত্যা মামলার আসামি ও ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মাসুদের চেয়ারম্যান পদে যোগদানপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।
​বুধবার সকালে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ৫ আগস্টের গণ-আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী নীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কোনো হত্যা মামলার আসামিকে চেয়ারম্যান পদে বহাল রাখা যায় না। তারা অবিলম্বে কামরুজ্জামান মাসুদের যোগদানপত্র প্রত্যাহার করে আইনের শাসন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
​বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় পর্যায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আপসহীন অবস্থানের কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার সঠিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তারা দ্বৈত নীতি পরিহার করে ৫ আগস্টের চেতনা অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। বিএনপির নেতা বুলু পাঠা
​কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন—দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব আব্দুল রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ মিয়া; দেবীদ্বার পৌরসভা আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, মো. মনির, মো. কবির; এবং দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
​মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন