রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। তদন্তে উঠে এসেছে, যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রায় ২৫ লাখ টাকায় পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ।
সোমবার (২৭ জুলাই) এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে ‘সিএনজি হাফিজের’ নাম উঠে এসেছে। এলাকায় ময়লার টেন্ডার ও ফুটপাতের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে পেশাদার ভাড়াটে খুনি এনে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানায় ডিবি।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবির মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)।
ডিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে কাফরুল থানাধীন ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে ডিবি জানতে পারে, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ আরও দুই থেকে তিনজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রথমে তারা মিরপুর-১০ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেন। পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে গিয়ে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সিএনজি হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ আবির হাওলাদারের কাছ থেকে দুটি পিস্তল নিয়ে আসেন। অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে গুলি বের হয়ে গেলে সেদিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। পরে তারা টার্গেট হাফিজুল ইসলাম বাবুকে শনাক্ত করে সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।
পরবর্তীতে ২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। পরদিন ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় তারা সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে পুনরায় একত্রিত হন। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অন্যটি চঞ্চলের কাছে দেন।
এরপর জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ আরও দুই থেকে তিনজন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বলে জানায় ডিবি। এ সময় সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, অভিযুক্তদের পালাতে সহায়তা এবং পুলিশের তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তিনি তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করা হলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। ওই গুলিতে বুকে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ । ৬:৩৮ অপরাহ্ণ