জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তাহরিকে খতমে নবুওয়্যাত বাংলাদেশের আমির ড. মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ও সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেছেন, তার বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ প্রচার করে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) এক গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এনসিপি নিয়ে তার কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের ‘বটবাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেন না। তার ভাষ্য, তার সব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য দ্বীনের স্বার্থ, উম্মাহর স্বার্থ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে এনসিপির ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দলটির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে গঠনমূলক সমালোচনা করে আসছেন।
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে এনসিপির কয়েকটি রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, কিছু সময় দলটি ফরহাদ মাজহারের প্রভাবাধীন ছিল এবং কখনো জর্জ সোরোসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে দলটির নীরবতারও সমালোচনা করেছেন তিনি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ প্রচার করা হয়েছে। পুরো বক্তব্য শোনা হলে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট হবে। এ কারণে সমালোচকদের সম্পূর্ণ বক্তব্য শোনার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) নিয়মিত জুমার বয়ানে রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কোরআন-সুন্নাহর নীতি নিয়ে আলোচনা করেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। ওই বয়ানে এনসিপির নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন জাসদ বা নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া অনেক রাজনৈতিক শক্তির মতো হারিয়ে না যান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা অন্তত হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী, এ কে এম ফজলুল হক কিংবা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে থাকা শক্তিগুলোর মধ্যে এখন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। তার মতে, এই রাজনৈতিক জোট কোরআন-সুন্নাহ ও তাকওয়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি; বরং ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার ভিত্তিতে গড়ে ওঠায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, তার ধারণা, একটি ‘দুষ্টচক্রের’ কিছু গুপ্ত ব্যক্তি এনসিপির ভেতরে ঢুকে উসকানি দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করছে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে সমালোচনারও একটি শালীন ভাষা ও ভিত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে পুলিশের প্রতিক্রিয়াকে একপাক্ষিকভাবে দেখা ঠিক নয়।
তবে তার বক্তব্যের একটি অংশ, যেখানে তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ যখন-তখন মাইক নিয়া প্রধানমন্ত্রী, তার বউ-কন্যাকে নিয়ে গালাগাল করবে, তো সরকার দলের লোকজন কি আঙুল চুষবে নাকি!’—এই অংশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে বিএনপির পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ আনেন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, তার বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে খণ্ডিত করে প্রচার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি সব সময় নীতিগত অবস্থান থেকে সব রাজনৈতিক দলের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করে আসছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ । ১২:৩৮ অপরাহ্ণ