শরীয়তপুরে জামায়াতের কর্মসূচিতে বিএনপির হামলার অভিযোগ, ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিক মারধরের শিকার

শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ । ২:০৮ অপরাহ্ণ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা মডেল মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাজিরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। একই সময়ে টিঅ্যান্ডটি মোড়ে পৃথক কর্মসূচি পালন করছিল বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জামায়াতের নেতাকর্মীরা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে হামলা চালায়। এতে কর্মসূচিস্থলে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সময় পুরো পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করছিলেন বিজয় টিভির জাজিরা প্রতিনিধি জুয়েল মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, হামলার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে দেখে কয়েকজন তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহা. আব্দুর রব হাসেমী দাবি করেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলনের নাম উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

আহত সাংবাদিক জুয়েল মিয়া বলেন, “আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। হামলার ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন আমার ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি চাই।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাজিরা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন এবং কোনো হামলায় জড়িত নন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাব। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন রবিন বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপরও আঘাত।” তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন