শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ । ৪:১১ অপরাহ্ণ

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে ভারতের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। কিন্তু আশ্রয়ে থেকে বাংলাদেশবিষয়ক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে সরকারের প্রশ্ন রয়েছে।

তার ভাষায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া কেন হলো, সেটিই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল প্রশ্ন।

দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

তবে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় এক পক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার মতে, যদি এক পক্ষ দায়মুক্তি পায়, তাহলে অন্য পক্ষেরও সেই অধিকার থাকা উচিত।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। বরং তারা বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিচার হবে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, সরকার নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ রাখতে চায় না। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, সরকার সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ

শেখ হাসিনার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনের আগে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ।

একই সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও ভারতের কাছে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতিকে ঘিরে এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে সরকার দেশের গণমাধ্যমকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ জানায়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেন।

ভারতের অবস্থান

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংবাদ সম্মেলনটি একটি বেসরকারি আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারতের সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পাশাপাশি সেখানে দেওয়া বক্তব্যও ভারত সরকার সমর্থন করে না বলে জানানো হয়।

তবে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের আপত্তি সত্ত্বেও নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং শেখ হাসিনা সরাসরি বক্তব্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্রের দাবি, ভারত সরকারের নীরব সমর্থন ছাড়া রাজধানী নয়াদিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন সম্ভব নয়। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন