সীমান্তে মানুষ মারতে কুমির ও বিষধর সাপ ছাড়ছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি এবার ‘প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা’ তৈরির নতুন এক বিতর্কিত কৌশলের দিকে ঝুঁকছে নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, বিএসএফ সীমান্তের দুর্গম ও নদীপথে নজরদারি বাড়াতে এমন কিছু ব্যবস্থার কথা ভাবছে যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন কৌশলের নেপথ্যে:
ভারত সরকারের নিরাপত্তা নথিপত্র এবং আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নদীপথ বা ‘রিভারাইন গ্যাপ’ রয়েছে, সেখানে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি এখন ‘অপ্রথাগত’ পাহারার বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে ভারত সরকার এখন পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টি উপেক্ষা করেই এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ:
ভারতের এই নতুন ভাবনার কথা চাউর হতেই বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্তে অস্বাভাবিক কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা কেবল সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর ঝুঁকিই ফেলবে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর এমন আঘাত আনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বলেন, “সীমান্তে যদি কৃত্রিম উপায়ে কোনো প্রাণিজ বা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, তবে তার নিয়ন্ত্রণ কারো হাতেই থাকবে না। এটি সীমান্তবর্তী সাধারণ মৎস্যজীবী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”
রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও আন্তর্জাতিক আইন:
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই ধরনের কৌশল শুধু নিরাপত্তা সংক্রান্ত নয়, এর সাথে নিগূঢ় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও জড়িত। ভারতের অভ্যন্তরীণ মুসলিম বিদ্বেষী রাজনীতি এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী জনপদে এক ধরণের ভীতি ছড়িয়ে দেওয়ার এটি একটি কৌশল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে আসছে। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চার্টারের সরাসরি লঙ্ঘন হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন