ছয় মাসেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে : সারজিস আলম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ । ১০:২৪ অপরাহ্ণ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপি ক্ষমতায় এসে একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা শুরু করেছে। এর ফলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দলটির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর জুলুম, মিথ্যা মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের আমলে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারা নির্যাতিত হয়েছিল, সেই একই ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি এখন তারা চর্চা শুরু করেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে বিদ্যুৎ, উৎপাদন, কৃষি ও পরিবহনসহ দেশের প্রায় সব খাত জড়িত। ফলে মানুষের জীবন ধীরে ধীরে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মানুষ টাকা দিয়েও সার পাচ্ছে না, মূল্য পরিশোধ করেও বিদ্যুৎ-গ্যাস পাচ্ছে না। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ছয় মাসে বিএনপি সেই লক্ষ্যের কাছাকাছি কর্মসংস্থানও তৈরি করতে পারেনি। বরং অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। তবে এই সময়ে তারা একটি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে, সেটি হলো চাঁদাবাজি। কয়েক লাখ মানুষের পেশা হয়েছে চাঁদাবাজি বলে দাবি করেন তিনি।

দেশের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে সারজিস বলেন, সর্বত্র স্বজনপ্রীতি চলছে। যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ করতে গেলে তাদের হয়রানি, গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নারী ইউএনওদের হেনস্তা এবং সিলেটের ডিসি সারোয়ার আলমকে বদলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইউএনও অফিসে গিয়ে নারী ইউএনওদের বিএনপির নেতাকর্মীরা কীভাবে হেনস্তা করেছেন, তা সবাই দেখেছেন। সিলেটের ডিসি সারোয়ার আলম চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট বন্ধ করতে গিয়েছিলেন। এক দিনের মধ্যে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

সারজিস আলম বলেন, এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের মধ্য দিয়ে বিএনপির মাধ্যমে বাংলাদেশের আগের রাজনৈতিক ধারায় প্রত্যাবর্তন দেখা যাচ্ছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, বিএনপি মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই জায়গায় ফিরে গেছে।

বিএনপিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তারা বিরোধী দল হতে পারেন। বিএনপির ভালো কাজকে ভালো বলার পাশাপাশি সমালোচনার জায়গায় সমালোচনা করা হবে। সমালোচনা করলে চোখ তুলে নেওয়া কিংবা রক্তাক্ত করার হুমকি দিলেও তারা পিছপা হবেন না। বাংলাদেশের মানুষ বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলেনি। যে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই মানুষ এই জুলুম বেশিদিন সহ্য করবে না।

বিএনপিকে দ্রুত ‘হেদায়েতের পথে’ ফিরে এসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান সারজিস আলম। একই সঙ্গে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

পার্বত্য এলাকায় কোটা নিয়ে বক্তব্য

পার্বত্য চট্টগ্রামের কোটা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, পাহাড়ের মানুষ এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কোটা রাখা প্রয়োজন। কারণ সমতলের মানুষের তুলনায় পাহাড়ের মানুষ শিক্ষা, চাকরি, বসবাস ও পারিবারিক জীবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন।

তবে এই কোটা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, প্রাপ্য ব্যক্তিকে সুযোগ না দিয়ে একটি সিন্ডিকেট নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়েও বিএনপির বিরুদ্ধে ‘দলীয় কোটা’ চালুর অভিযোগ করেন সারজিস। তিনি বলেন, বিএনপির নেতা বা পদ-পদবি থাকলে জেলা পরিষদে থাকা যাবে, এটাই যেন এখানকার কোটা।

এ ধরনের দলীয়করণের ফলে পার্বত্য এলাকার মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও প্রত্যাশা থেকে তারা বঞ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ গঠনে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন সারজিস আলম।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির এই সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রত্যেকটি জায়গায় এ ধরনের দলীয়করণ বিএনপির জন্য কিংবা দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।’

সভায় খাগড়াছড়ি জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নূর আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এতে এনসিপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন