কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে তিন বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি।
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:০৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের পার্কিং এলাকা থেকে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িগুলোর ক্রয় ও আমদানি-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এগুলো জব্দ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাড়িগুলো শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, চোরাচালান কিংবা দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের পাঁচ তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পার্কিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়ি তিনটি জব্দ করা হয়। শুক্রবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল ওই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঢাকা মেট্রোর নম্বরযুক্ত একটি লাল রঙের টয়োটা, একটি লাল রঙের হোন্ডা এবং টুইন গ্রে রঙের একটি মাজদা গাড়ি জব্দ করা হয়।

অভিযানের সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা গাড়িগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। টয়োটা গাড়িটির বহনকারী হিসেবে মো. হাসিবুর রহমান সিনহা, হোন্ডা গাড়িটির বহনকারী হিসেবে মো. সাফিয়াত মাহমুদ এবং মাজদা গাড়িটির বহনকারী হিসেবে মো. সারাফাত রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তবে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা গাড়ি তিনটির ক্রয় বা আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য কিংবা বৈধ দলিলপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। এতে গাড়িগুলোর বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে পার্কিং এলাকায় থাকা অবস্থায় গাড়ি তিনটি জব্দ করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাড়িগুলো শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, ভিন্নতর উপায়ে অথবা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে দলিল জালিয়াতির বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, জব্দ করা গাড়িগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে গাড়িগুলো কীভাবে দেশে এসেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন