লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে একজন গ্রেপ্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:৩৭ অপরাহ্ণ

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহতকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি সুমন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে বসতঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান তিনি। সূত্রের দাবি, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন।

সুমনকে শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বোন, বোনের স্বামী ও খালাশাশুড়িকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুমনের একটি রিল ছড়িয়ে পড়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে তাজমিনের চলাচলের চিত্র

বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়। অটোরিকশাটির মালিক জানিয়েছেন, সেটির চালক সুমন। গাড়িটির নিবন্ধনও রয়েছে।

পুলিশ তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফেরা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমিন।

এরপর তাকে হোটেলের পাশের খাবারের দোকান এবং পশ্চিম পাশের কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যেতে দেখা যায়। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। এ সময় দোকানিকে তাজমিনকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে দোকানের সামনে কিছু দেখার পর সেখান থেকে অন্য পাশে চলে যায় তাজমিন। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর বাড়ি ফেরার জন্য সে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে।

বাবাকে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন

নিহত তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ধানমন্ডিপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় তার একমাত্র মেয়ে। শহরে এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হলেও পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় তাজমিন। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় সে।

বুধবার রাতে মেয়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন আবদুল আলীম। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

আবদুল আলীম বলেন, বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তার মেয়ে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠায়। বার্তায় তাকে গিয়ে নিয়ে আসতে বলে তাজমিন।

তিনি বলেন, “তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।”

মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তাজমিনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তা নিশ্চিত করা হয়।

ওসি জানান, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই বলে জানা গেছে।

তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন