প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে তৃতীয় বিবাহ করে লাপাত্তা স্বামী, টাকা উদ্ধারে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন দাউদকান্দির মেয়ে প্রথম স্ত্রী

দাউদকান্দি কুমিল্লা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:০৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম ইপিজেডের ইয়াংওয়ান কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা ও কুমিল্লার দাউদকান্দির মেয়ে নার্গিস আক্তারের অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভনে এক কোটি টাকা নিয়ে তৃতীয় বিয়ে করে আত্মগোপনে রয়েছেন স্বামী শাহাদাত হোসেন টিটু।
টাকা উদ্ধারে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক কন্যাসন্তানের জননী নার্গিস।
এদিকে ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। এ ঘটনায় দেশবাসীর কাছে বিচার চেয়েছেন এই নারী।

১০ অক্টোবর শনিবার কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মলয় ডেক্রিখোলা এলাকার নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নার্গিস আক্তার।

তিনি জানান, ২০০৯ সালের দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হাজারীপাড়া গ্রামের বড়বাড়ির বাসিন্দা আবুল বাশারের ছেলে শাহাদাত হোসেন টিটুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১০ সালে শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শাহাদাত হোসেনের মায়ের আপত্তির কারণে স্ত্রী নার্গিস আক্তারকে নিজের ঘরে তুলে নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রথম স্ত্রীর রেজিস্টার ভুক্ত দেনমোহর না থাকায় অনুমতি ছাড়াই ২০১২ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শাহাদাত হোসেন।

নার্গিসের দাবি, শাহাদাত হোসেনের পূর্ববর্তী কর্মস্থলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা করেন গ্রাহকেরা। এসব মামলার কারণে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে যান। পরে প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তার কয়েক লাখ টাকা খরচ করে তাঁকে মামলা থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করেন। ২০১৫ সালে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তার স্বামী শাহাদাত হোসেনের সাথে বিবাহ রেজিস্ট্রি করেন

এরপর বিভিন্ন সময়ে নানা কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক ধাপে নার্গিস আক্তারের কাছ থেকে চেক ও লিখিত স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এক কোটি টাকা নেন শাহাদাত হোসেন। টাকা নেওয়ার পর থেকেই প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। গত আট মাস আগে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তৃতীয় বিয়ে করেন শাহাদাত হোসেন। এরপর থেকে তিনি লাপাত্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ নার্গিসের।

তিনি জানান, টাকা লেনদেনের বিপরীতে পাওয়া চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এরপর পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য এক কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন তিনি।

নার্গিস আক্তারের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ১৬ আগস্ট শাহাদাত হোসেন তাঁর গ্রামের বাড়ি দাউদকান্দির ডেক্রিখোলায় আসেন। সেখানে এসে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক একাধিক ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধস্তাধস্তি হলে শাহাদাত হোসেন নার্গিস আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ১৬ আগস্ট দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানান নার্গিস আক্তার। এরপর থেকে শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে তাঁর সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নার্গিসের আরও অভিযোগ, বর্তমানে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া টাকা দিয়ে শাহাদাত হোসেন ট্রাভেলসের ব্যবসা করছেন। স্ত্রী সন্তানের কোন খোঁজ খবর রাখছেন না তিনি।

এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথমে দুই ঘন্টা পর তাহার বক্তব্য জানানোর কথা বলেন। ২ ঘন্টা পর ফোনে চেষ্টা করলে পাওয়া যায়নি তাকে। অপেক্ষা করে দ্বিতীয় দিন আবারো মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে পাওয়া যায়নি তাকে।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম এর সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বিস্তারিত আমার জানা নেই।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন