বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) সুযোগ না পাওয়া প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হতাশ না হয়ে নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এসব খেলোয়াড়কে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন লিগে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ ও ভর্তির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে বিকেএসপিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে ১ লাখ ৬৮ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মধ্য থেকে ৩০৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে ৪০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত বিকেএসপিতে পৌঁছাতে বা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারেননি। তাদের মেধা ও পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম আসরে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হলেও ১৫ বা ১৬ বছর বয়সি একটু বেশি বয়সের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধরে রাখার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এই লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’র দ্বিতীয় আসরে প্রায় ১৬ লক্ষ ২৩ হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ ক্রীড়াবিদ ৪৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করে পারফর্ম করবে। ১৫, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সি এসব খেলোয়াড়কে সারা দেশের প্রতিটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন লিগে খেলানোর মধ্য দিয়ে ধরে রাখা হবে। সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে তুলে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করা হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই আসরে খেলোয়াড়েরা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের পুনরায় বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ট্যালেন্টেড খেলোয়াড়দের স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়ে তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার বহন করবে। প্রথম আসরে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ৩০৬ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাওয়া গেলেও বিভিন্ন কারণে অনেকেই বিকেএসপিতে পৌঁছাতে পারেননি—এমন খেলোয়াড়দের পরবর্তী আসরে তাদের পারফরম্যান্স প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আবারও অংশগ্রহণের সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রথম আসরে সুযোগ না পাওয়া ১৫, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন লিগে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় আসরে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন খেলোয়াড়েরা।
জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের পুনরায় বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করা হবে। তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা এবং তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৩০ অপরাহ্ণ