গাজীপুরে মাদক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি জিতুর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

মাদক মামলা একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও বন্ধ করেননি মাদক ব্যবসা

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাইলকুর গিরিগির মোড় এলাকায় ইমরান হোসেন জিতু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক কারবার, চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা ও কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের সঙ্গে চলাফেরা করেন জিতু। তাঁদের ব্যবহার করে মাদক কারবার পরিচালনার পাশাপাশি নিজেও এ ব্যবসায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বাধা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এর আগেও মাদকসংক্রান্ত মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জিতু। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আংশিক পরিচয় প্রকাশে রাজি হওয়া মো. রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কয়েক বছর ধরে জিতু মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর ভাষ্য, জিতুর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি হামলার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

অন্যদিকে মানিক হোসেন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, জিতু কখনো অটোরিকশাচালক, আবার কখনো পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এসব পরিচয়ের আড়ালে মাদক কারবার, চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাঁকে ‘মাদক সম্রাট’ ও ‘কিশোর গ্যাংয়ের নেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর পোশাক কারখানার শ্রমিকদের যাতায়াতের সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া অটোরিকশা নিয়ে রাতের বিভিন্ন সময়ে সড়কে ঘোরাফেরা করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং কথিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে হামলা করানো হয় বলেও দাবি তাঁর।

এলাকাবাসীর কয়েকজনের অভিযোগ, জিতু প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন আরও দাবি করেন, অতীতে তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইমরান হোসেন জিতুর সঙ্গে একাধিকবার সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। সংগ্রহ করা মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে মাদক কারবার, চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে খাইলকুর এলাকার পোশাকশ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ইমরান হোসেন জিতু এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়গুলো আমলে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কাজ করছে আমাদের অনুসন্ধানী টিম।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন