৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিন গেল মৌসুমের প্রথম জাহাজ

আহনাফ হামিম | বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে পর্যটকদের নিয়ে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে চলতি মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে আট শতাধিক পর্যটক নিয়ে দ্বীপটির উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি বার আউলিয়া। এর মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুমে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হলো।

জাহাজে ওঠার আগে পর্যটকদের ট্রাভেল পাস যাচাই করা হয়। পাশাপাশি দ্বীপ ভ্রমণের সময় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় জাহাজের ফিটনেস, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে বুধবার কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌপথে তিনটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো হলো—এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

গত ২৫ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা জটিলতা কাটিয়ে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যাঁরা টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তাঁরাই আজ ভ্রমণে যাচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজটি বিকেল আড়াইটায় সেন্ট মার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে সেগুলোও চালু করা হবে। এ ছাড়া আরও ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেন্ট মার্টিনের পর্যটন নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, জাহাজ চলাচলে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে জাহাজ চলাচল বাড়লে প্রতিটি বিষয় আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, জাহাজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শনসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম বিআইডব্লিউটিএ পরীক্ষা করে থাকে। পরিদর্শনে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী পাওয়া গেছে।

এর আগে বুধবার তিনটি জাহাজ চলাচলের ঘোষণা থাকলেও যাত্রী সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত একটি জাহাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, ইতিমধ্যে অনেক পর্যটক টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্ট মার্টিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের পদচারণায় আবারও মুখর হওয়ার অপেক্ষায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। তবে পর্যটন কার্যক্রমের পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন