কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কদমতলী মোহসীনিয়া কওমী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা মকবুল এলাহীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ সময় হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের কদমতলী-বাহেরচর সড়কের মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মকবুল এলাহীর অভিযোগ, মাদ্রাসার মালিকানাধীন জমিতে ফলদ গাছের চারা রোপণ করতে গেলে স্থানীয় ইলিয়াছ মুন্সির নেতৃত্বে কয়েকজন এতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। হামলায় তাঁর নিচের ঠোঁটের বাম পাশে কেটে রক্তক্ষরণ হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সঙ্গে জমি নিয়ে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৮ অক্টোবর রাতের আঁধারে ওই জমিতে থাকা আটটি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক দিন পর ৪ নভেম্বর সকালে মাদ্রাসার জমিতে ১৭টি ফলদ গাছের চারা রোপণ করতে গেলে ইলিয়াছ মুন্সি ও জহির ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁরা মাদ্রাসার মুহতামিমকে মারধর করে এবং রোপণ করা ১৭টি গাছের চারা উপড়ে ফেলে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জাকারিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
এদিকে হামলার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিতে গাছের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিমের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী মাওলানা মকবুল এলাহী জানান, এ ঘটনায় ইলিয়াছ মুন্সিকে প্রধান অভিযুক্ত করে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ইলিয়াছ মুন্সিসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি নিজের ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার :
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:২৩ অপরাহ্ণ