গাজীপুর কোনাবাড়ী থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি: শেখ মোরশেদ আলম জিসান
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:২৯ অপরাহ্ণ

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোহেল নামের আরও এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।

এ বিষয়ে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। তার বাড়ি গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকায়। অভিযোগের পর থেকে ওসি ও তাঁর সহযোগীদের হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটছে বলে দাবি করেছেন ওই তরুণী ও তাঁর পরিবার।

অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

লিখিত অভিযোগে তরুণী উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর পাঁচ মাস আগে ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকাকালে একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে তিনি থানায় যান। ওই সময় ওসি তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিত ফোনালাপের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক চলাকালে ইফতেখার নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

তাঁর অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে ওসি ইফতেখার হোসেন তাঁকে বিভিন্ন সময় তাঁর বন্ধু সোহেলের বাসায় নিয়ে যেতেন। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এ ঘটনায় সোহেল সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সোহেল নিয়মিত তাঁদের দেখা করানোর ব্যবস্থা করতেন এবং নিজের বাসা ব্যবহারের সুযোগ করে দিতেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওসি ইফতেখার তাঁকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে ওসির বাবা ফোন করে তাঁর পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন বলে অভিযোগ করেন তরুণী। এর প্রতিবাদ করায় ওসি তাঁকে গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ওসি ইফতেখার হোসেনের নির্দেশে তাঁর বন্ধু সোহেল ও কথিত এক আত্মীয় তাঁর বাসায় যান। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা কল রেকর্ড ও মেসেজ মুছে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমানে ওসি ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন, এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর আশঙ্কাও করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ওই তরুণী। তাঁর দাবি, ওসি তাঁর মা-বাবার কাছেও বার্তা পাঠিয়েছেন, যেন তাঁকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং বিয়ের জন্য কিছু টাকা দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, “কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। তাঁদের ভয়ে বাসা থেকেও বের হতে পারছি না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তিনি অভিযুক্ত ওসি ইফতেখার হোসেন ও তাঁর সহযোগী সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ওসি ইফতেখার হোসেন ও সোহেলের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সম্পাদক: সোহেল আহম্মেদ নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তফা কামাল সুমন কপিরাইট © এম টিভি বাংলা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন