পটুয়াখালী পৌর শহরের একটি ক্লিনিকের পিয়ন মো. মাসুম বেপারীর তিন মেয়ে সুমাইয়া, সাথী ও তানজিলার বিরুদ্ধে পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে, ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল এবং বিয়ে-পরবর্তী সময়ে তালাক ও মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, সংসার না করার কথা বলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে তালাকের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে দেনমোহর ও অন্যান্য অর্থ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ দিতে না পারলে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের বড় মেয়ে সুমাইয়া ২০১৬ সালে নিজের বয়স ১৯ বছর দেখিয়ে রেজাউল নামের এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন পর সংসার করবেন না জানিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে তালাক চান। পরে বাবার বাড়িতে ফিরে দেনমোহর ও ভরণপোষণের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারলে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে রেজাউল ও তার পরিবারের অভিযোগ।
রেজাউলের মা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পটুয়াখালী শহরের কলাতলায় মাসুম বেপারীর বাসায় গেলে তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে দেনমোহরের টাকা পরিশোধের মাধ্যমে সুমাইয়া ও রেজাউলের বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হয় বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ দাবি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে সুমাইয়া মাদরাসায় পড়ুয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুলকে বিয়ে করেন। ২০২২ সালে প্রথম স্বামী রেজাউলের সঙ্গে বিরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে দ্বিতীয় স্বামী সাইফুলকেও আত্মহত্যার চেষ্টার হুমকি দিয়ে মৌখিকভাবে তিন তালাক দিতে বাধ্য করা হয় বলে সাইফুলের অভিযোগ।
তালাকের নোটিশ পাঠানোর পর কাবিননামা ব্যবহার করে প্রথমে পটুয়াখালী জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে পটুয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সদর আমলি শাখায় সাইফুল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের মেজ মেয়ে সাথী আক্তার বর্তমানে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। বড় বোন সুমাইয়ার মতো তিনিও পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে একাধিক বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালে শুভ নামের এক যুবকের সঙ্গে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পর তাকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। শুভ বিয়েতে রাজি না হলে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে বিক্রির অভিযোগে মামলা করা হয়। একই সঙ্গে শুভর পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শুভ। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।
এরপর মিরাজ নামের এক যুবককে বাসায় ডেকে নিয়ে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে মিরাজকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাড়িওয়ালার বাসায় কাজ করা একজন রাজমিস্ত্রিসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে সাথীর সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসমাইল নামের এক যুবকের সঙ্গে সাথীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইসমাইলের অভিযোগ, তাকে বাবার বাসায় ডেকে নিয়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। পরে ইসমাইলের বাড়িতে গিয়ে সাথী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির কারণে ইসমাইল তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন বলে তার দাবি।
ইসমাইলের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, সাথীসহ ওই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আপত্তি জানানোর পর বড় বোন সুমাইয়ার সহযোগিতায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তার গোপনাঙ্গের কিছু অংশ কেটে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি গাজীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
পরবর্তীতে সাথী নিজে তালাক চাইলে ইসমাইল তালাকের নোটিশ পাঠান। ইসমাইলের দাবি, বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা না হলেও বিচ্ছেদের পর পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সেজো মেয়ে তানজিলা আক্তারকে নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, পটুয়াখালীতে বসবাসের সময় পরিবারের বাড়িওয়ালা ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলা হয়। এতে ওই বৃদ্ধের প্রায় ৭০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয় এবং তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে রুহুল আমিন নামের এক যুবকের সঙ্গে তানজিলার বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন পর সংসার করবেন না জানিয়ে তালাকের কথা বলেন এবং দেনমোহরের টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে রুহুল আমিনের অভিযোগ। একপর্যায়ে স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
এরপর পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে গাজীপুরে শুভ নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন তানজিলা বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে আগের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের মধ্যে তালাক হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তিন বোনের বিষয়ে সুমাইয়ার দ্বিতীয় স্বামী সাইফুল ইসলাম অন্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানা, মিরপুর মডেল থানা ও গাজীপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান সাইফুল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সূত্র ধরে পটুয়াখালী পৌর শহরের বিসমিল্লাহ মোটরসের স্বত্বাধিকারী আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বড় মেয়ে সুমাইয়ার মোবাইল ফোন কেনার টাকার প্রয়োজন হলে ছোট চৌরাস্তার ময়না নামের এক নারীর মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তিনি কাস্টমার ঠিক করে দেন।
আল আমিনের ভাষ্য, এরপর ঢাকা ও অন্যান্য জায়গা থেকে আসা ব্যক্তিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পটুয়াখালী শহর, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকার হোটেল ও বাসায় সুমাইয়া, সাথী ও তানজিলাকে পাঠিয়ে দিতেন। এ কাজে তারও একটি বড় অংশ থাকত বলে তিনি দাবি করেন। তার মাধ্যমে তিন বোন কয়েক লাখ টাকা আয় করার সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আল আমিন আরও বলেন, কয়েক মাস আগে একটি পেমেন্ট আটকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন বোন তার শোরুম বিসমিল্লাহ মোটরসে এসে ঝামেলা করেন। এরপর কয়েক মাস ধরে তাদের সঙ্গে তার আর যোগাযোগ নেই।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সূত্র ধরে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকার কয়েকজন বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বড় মেয়ে সুমাইয়া স্বামী পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে বাসায় থাকতেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়িওয়ালারা কাবিননামা অথবা বিয়ের প্রমাণ দেখতে চাইতেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি বাসা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতেন।
সুমাইয়ার প্রথম স্বামী রেজাউল বলেন, “বিয়ের পর থেকেই সুমাইয়ার আচার-আচরণ ভালো ছিল না। আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে তালাক চেয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। পরে দেনমোহরের টাকা না দিলে মামলার হুমকি দেয়। আমি অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে পরিশোধ করলে আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।”
মারধরের বিষয়ে রেজাউলের মা বলেন, “ঝামেলা চলাকালে আমি সুমাইয়াদের বাসায় গেলে সুমাইয়ার বাবা আমাকে রশি দিয়ে বাঁধতে বলেন। পরে আমাকে মারধর করে মোবাইল ও টাকা রেখে দেন।”
সুমাইয়ার দ্বিতীয় স্বামী সাইফুল ইসলাম বলেন, “তিন বোন, তাদের বাবা, নান্নু মৃধা ও জুই মিলে একটি প্রতারক চক্র। তারা পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে একের পর এক বিয়ে করেন। পরবর্তীতে নিজেরাই সংসার ভেঙে চলে যান। এরপর মামলা করে হয়রানি করেন। তালাক কার্যকর হওয়ার পর এই পরিবার আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা যৌতুকের মামলা করেছে। মামলার ঘটনার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। মামলায় সাক্ষী হিসেবে নান্নু মৃধা ও জুইকে দেখা যাবে। তারা প্রতিটি মেয়ের বিয়ে, তালাক ও মামলায় সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন।”
শুভর বক্তব্য
ভুক্তভোগী শুভ বলেন, “আমাকে বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। মামলা তুলে নিতে এই পরিবার মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।”
ইসমাইলের বক্তব্য
ভুক্তভোগী ইসমাইল বলেন, “আমার অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে তার বাবা মাসুম বেপারীর ভূমিকা রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে মেয়েদের মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে বিয়ের নামে কাবিনসংক্রান্ত ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়। কিছুদিন পর সংসার করবেন না বলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করা হয়। অন্য পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করতে বললে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ডিভোর্স চেয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “চাকরির উদ্দেশ্যে গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থাকতাম। সেখানে কয়েকবার আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। একদিন রাতে ঝগড়ার পর ঘুমন্ত অবস্থায় আমার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। হঠাৎ টের পাওয়ায় বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেলেও কিছু অংশ কেটে যায়। এ ঘটনার ছবি ও প্রমাণ এখনো আমার কাছে রয়েছে। আমি থানায় অভিযোগও করেছি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিস করেছিলেন। এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো থাকলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। গাজীপুর সদর থানায় পরপর দুটি অভিযোগ করেছি। আমার বিয়েতে কাবিন না থাকলেও ডিভোর্সের পর পাঁচ লাখ টাকা কাবিন করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। দাবি না মানলে ভবিষ্যতে মামলা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন বলেন, “পারিবারিকভাবে তানজিলার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। আমার অভিযোগ, তিন বোনই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আমার সঙ্গে সংসার করবে না জানিয়ে ডিভোর্স নিয়ে দেনমোহরের টাকা আদায়ের জন্য মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।”
পটুয়াখালী শহরের মধ্যকলাতলার বাড়িওয়ালার স্ত্রী বলেন, “তারা বিভিন্ন সময়ে নানা পরিচয়ে বাসায় ছেলেদের নিয়ে আসতেন। আমার বাসায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এমন একজন ছেলের সঙ্গে মেজ মেয়ে সাথীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমাদের বাসায় ভাড়া থাকা অবস্থায় সাথীর স্বামী না থাকা সত্ত্বেও সে চার-পাঁচ মাসের গর্ভবতী হয়েছিল বলে জানতে পারি। মেয়েটিকে যেহেতু বিয়ে দিতে হবে, তাই মানসম্মানের কথা চিন্তা করে নিজের টাকা ধার দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এরপরও সেজ মেয়ে তানজিলা আমার বৃদ্ধ স্বামীকে ফাঁদে ফেলে সম্মানহানি ও আর্থিক ক্ষতি করেছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরিবারের মেজ মেয়ে সাথী আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বড় মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার প্রথম স্বামী ছিলেন রেজাউল। দ্বিতীয় স্বামী সাইফুল দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর ধরে আমার খোঁজখবর নেন না। তিনি ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছেন। আমি নিরুপায় হয়ে সাইফুলের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেছি।”
এ বিষয়ে বাবা মাসুম বেপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার তিন মেয়ের একাধিক বিয়ে ও ডিভোর্সের বিষয়টি স্বীকার করেন। সাইফুল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর ধরে আমার মেয়ের খোঁজখবর নেয় না। এজন্য যৌতুকের মামলা করেছি।”
অন্যান্য মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এই পরিবারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিয়ে ও তালাকের নথি, কাবিননামা, দেনমোহর, আর্থিক লেনদেন, থানায় করা অভিযোগ এবং আদালতে চলমান মামলার কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শেখ মোরশেদ আলম জিসান
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১১ অপরাহ্ণ