ফরিদপুরে অবহেলিত ও এতিম শিশুদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে এক অনন্য ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিস খানের ভূমি দান এবং সমাজসেবক খাইরুল ইসলাম রোমানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নেতৃত্বে এখানে গড়ে উঠছে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ‘মডেল এতিমখানা’। এই এতিমখানাটি এলাকার এতিম শিশুদের জন্য একটি বড় আশ্রয়স্থল ও আশার আলো হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, এতিম ও দুস্থ শিশুদের ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার পাশাপাশি তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই মডেল এতিমখানার মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিস খান স্বপ্রণোদিত হয়ে জমি দান করে এক দৃষ্টান্তমূলক মানবিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
অন্যদিকে, এতিমখানার সার্বিক অবকাঠামো নির্মাণ, পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন খাইরুল ইসলাম রোমান। তার সুনিপুণ দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরো প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলছে।
উদ্যোক্তারা জানান, সাধারণ এতিমখানার চেয়ে এটি হবে কিছুটা ব্যতিক্রমী ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত। এখানে এতিম শিশুদের থাকা-খাওয়ার মানসম্মত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করতে বিভিন্ন জীবনমুখী কর্মমুখী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এতিমখানার শিক্ষার্থীদের সঠিক ধর্মীয় ও মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে দায়িত্ব নিচ্ছেন অভিজ্ঞ ধর্মীয় শিক্ষকবৃন্দ। এতে সরাসরি শিক্ষকতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন ঝিলটুলি জামে মসজিদের ইমাম এবং হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান রোমান। তাদের সুপরিচিত দ্বীনি ইলম ও যোগ্য পরিচালনার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সঠিক ইসলামি অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষার আলো পাবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, আনিস খানের এই জমি দান এবং খাইরুল ইসলাম রোমানের নিবেদিত নেতৃত্ব ও দেখভাল ফরিদপুরের অবহেলিত শিশুদের জন্য এক নতুন ভোরের সূচনা করবে। এই মডেল এতিমখানাটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে এর সেবা চালু করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:৫৮ অপরাহ্ণ