খুঁজুন
, ,

‎সুন্দরবনে ঢুকতে বনজীবিদের সংশয়

‎ ‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
‎সুন্দরবনে ঢুকতে বনজীবিদের সংশয়

‎তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ঋণগ্রস্ত জেলেদের মধ্যে জলদস্যু ও চাঁদাবাজদের কবলে পড়ার তীব্র আতঙ্ক কাজ করছে।
‎
‎দীর্ঘ তিন মাসের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন বনজীবী ও জেলেরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বনের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদগুলোতে এখন নৌকা মেরামত, জাল বোনা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের যোগাড় নিয়ে চরম ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই জীবিকার পথ উন্মুক্ত হওয়ার আনন্দ ছাপিয়ে জেলেদের মনে ভর করেছে গভীর সংশয়। বন বিভাগ থেকে পাশ-পারমিট সংগ্রহের প্রস্তুতি চললেও, বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর নিজেদের নিরাপত্তা এবং উপার্জিত অর্থের সুরক্ষাকে ঘিরেই প্রধানত এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে প্রবেশ করা জেলেদের জন্য জলদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অবৈধ শিকারি চক্রের দৌরাত্ম্য এক বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
‎
‎ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জীবন নির্বাহের জন্য তাদের এনজিও এবং স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বনে প্রবেশ করলেই তাদের আয়ের একটি বড় অংশ জলদস্যুদের ‘স্লিপ’ বা টোকেন মানি হিসেবে চাঁদা দিতে হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানিয়েছেন যে, অতীতে প্রতি ১৫ দিনের যাত্রার জন্য নৌকাপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে দস্যুদের আগাম চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো। এছাড়া বনে দায়িত্বরত অসাধু বনকর্মীদের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারি চক্রের অবৈধ তৎপরতা বনজীবীদের নিরাপত্তাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। এই চক্রগুলোর সাথে সংঘাতের ভয়ে অনেক জেলে বনে ফিরতে দ্বিধাবোধ করছেন, কারণ মাছ ও কাঁকড়া আহরণের পর চাঁদা ও অবৈধ খরচের হিসাব মেলালে তাদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
‎
‎তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলেদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শামসুল আরেফীন জানিয়েছেন যে, সুন্দরবনে জেলেদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে লোকালয়ে লুকিয়ে থাকা দস্যুদের সহযোগীরা, যারা জেলেদের কাছ থেকে টোকেনের নামে চাঁদা আদায় করে, তাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের মাধ্যমে দস্যুদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করা সম্ভব হবে। তবে বনজীবীদের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বনের অভ্যন্তরে নিয়মিত টহল জোরদার এবং অসাধু চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে না দিলে তাদের আতঙ্ক দূর করা সম্ভব নয়।
‎
‎সুন্দরবনকেন্দ্রিক এই অর্থনীতি মূলত হাজার হাজার পরিবারের জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস। কিন্তু প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ে জলদস্যু ও চাঁদাবাজদের আধিপত্যের যে চিত্র ফুটে ওঠে, তা উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। যদি প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও চাঁদাবাজদের এই দুষ্টচক্র সক্রিয় থাকে, তবে বনজীবীরা কেবল অর্থনৈতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং বনের সামগ্রিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। আগামী কয়েক মাস জেলেদের জন্য কতটা নিরাপদ হবে, তা এখন প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতার ওপরই নির্ভর করছে। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হলে দস্যুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

‘শিক্ষাই গড়বে সোনার বাংলা’ স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ‘স্বপ্নছোঁয়া মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নোয়াগাঁও স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার নোয়াগাঁও ক্যামব্রিয়ান স্কুলে এ আয়োজন করা হয়।

স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. বাবুল খন্দকার।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিয়ে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার এবং ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা বিকাশ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ। শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো, তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবক মো. জাকির হোসেন, আলমগীর হোসেন, মো. শাকিল চৌধুরী, মো. আল আমিন, মো. রেজাউল করিম , মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল এনাম রনি।

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

ঢাকার আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) বিশেষ অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ মো. জামাল মিয়া ওরফে সেলিম (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ জব্দ করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সাভারে ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন কবিরপুর রেডিও কলোনী জামে মসজিদের সামনে সড়কে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে একটি পিকআপে গাঁজা নিয়ে চন্দ্রা থেকে বাইপাইলের দিকে আসা হচ্ছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কবিরপুর রেডিও কলোনী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় পিকআপ থেকে ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া জব্দ করা নীল রঙের নম্বরপ্লেটবিহীন ফোটন পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা।

গ্রেপ্তার জামাল মিয়া ওরফে সেলিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার বনগজ এলাকার বাসিন্দা। ডিবি পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে তিনটি মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা ও একটি চুরির মামলা রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা ডিবি-উত্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই শেখ মফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

ঢাকার আশুলিয়ায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানকে পথরোধ করে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় জামাল হোসেন মুকুলের স্ত্রী মোছা. আলো বেগম (৪০) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।তিনি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কর্মরত আছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে আশুলিয়ার বাইপাইল শান্তিনগর এলাকায় সিদ্দিকের বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের দাবি, ওই সময় এলাকাটি নির্জন ছিল এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সিদ্দিকের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং চিৎকার করলে বাড়ি থেকে লোকজন বেরিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যান। এ সময় অন্ধকারে আরও কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি তাঁর। তাঁদের নেতৃত্বে কাউছার নামে এক ব্যক্তি ছিলেন বলেও জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের অভিযোগ, জামাল হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে অতীতে প্রতারণার অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর সন্দেহ।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন ওই সাংবাদিক।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।