খুঁজুন
, ,

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধ প্রবণতায় উদ্বেগ: প্রকৃত দায়ীদের জবাবদিহিতার আহ্বান জামায়াত নেতা মো. এনামুল হকের

মোঃ বেলাল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর, রংপুর |
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধ প্রবণতায় উদ্বেগ: প্রকৃত দায়ীদের জবাবদিহিতার আহ্বান জামায়াত নেতা মো. এনামুল হকের

দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার দৃশ্যমান দুর্বলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, রংপুর জেলার সেক্রেটারি মো. এনামুল হক। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি গভীর সংকটের উপসর্গ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি শাহবাগ থানায় মব সৃষ্টি করে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের মতো লোমহর্ষক ঘটনা ও ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলার বিচারহীনতাকে রাষ্ট্রের দুর্বলতার চরম বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মিঠাপুকুর উপজেলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করে মো. এনামুল হক বলেন, “আমাদের মিঠাপুকুরে অটোভ্যান চালকদের ওপর ক্রমাগত হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। খেটে খাওয়া মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যা কেবল আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত।”
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে একতরফাভাবে জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করার প্রবণতা নিয়ে তিনি ভিন্নমত পোষণ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশ ও প্রশাসনের সাংবিধানিক ও পেশাদার দায়িত্ব। প্রশাসন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে কতটা সচেষ্ট, সেই প্রশ্নটি জোরালোভাবে তোলা প্রয়োজন। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা সমস্যার সমাধান দেয় না, বরং তা প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করে।”
পরিশেষে, তিনি রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। মো. এনামুল হক বলেন, “এলাকার মানুষ রাজনৈতিক সহিংসতা চায় না, তারা চায় নিরাপত্তা। সমালোচনা হোক, তবে তা যেন অবশ্যই নিরপেক্ষ, যুক্তিনির্ভর এবং প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে হয়।”
দেশ ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় হামলা-ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় হামলা-ভাঙচুর

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে আশপাশের কয়েকটি চালু কারখানায়ও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল আনসার রোড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কে চলাচলরত বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে আশপাশের উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকা কয়েকটি কারখানায়ও হামলার ঘটনা ঘটে।

হঠাৎ এ হামলার ঘটনায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা সেখান থেকে সরে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর বড় অভিযান: ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর বড় অভিযান: ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও পাঁচটি দেশীয় তৈরি অস্ত্রসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার গ্রামের আঠারো ঘরপাড়া এলাকায় সীমান্তসংলগ্ন একটি ধানক্ষেতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসআরবি-১৫-এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি চক্র সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার এলাকায় অবস্থান করছে। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আবছার উদ্দীন (১৯) এবং মৌলভীবাজার এলাকার ছলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আদিল (২৬)।

এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের মাধ্যমে বড় বড় ইয়াবার চালান দেশে প্রবেশ করছে। এসব মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এসআরবি-১৫-এর ৫৫টি অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা, ৪৮ কেজি গাঁজা, একটি একনলা বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটারগান, ১৭ রাউন্ড গুলি ও ২৭ রাউন্ড গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতজন অপহৃত ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং মোট ৮৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিনায়ক বলেন, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নির্মূলে এসআরবি-১৫-এর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে পর্যায়েরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনী বদ্ধপরিকর।

গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

শৈলকূপাতে দুই নারী ছিনতাইকারী আটক

এইচ এম রাহুল ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
শৈলকূপাতে দুই নারী ছিনতাইকারী আটক

 

ঝিনাইদহের শৈলকূপা বাজারে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ছিনতাইকারী দুইজন জামালপুর জেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তাকতাপাড়া গ্রামের ফরিদা বেগম (২১) এবং একই গ্রামের নিপা আক্তার (২৬) । তারা উভয়েই বেদে সম্প্রদায়ের ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসহাক হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শৈলকূপা বাজারের পূবালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে আসেন। ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা উত্তোলন শেষে বের হয়ে পুরাতন সোনালী ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য তাকে ঘিরে ধরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বৃদ্ধ ইসহাকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে চক্রের দুই সদস্য পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা দুই নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, জনতার হাতে আটক দুই নারীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।