খুঁজুন
, ,

জনগণ মালিক, না কি কেবল দর্শক

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
জনগণ মালিক, না কি কেবল দর্শক

রহমান মৃধা,

গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

 

বাংলাদেশে আমরা প্রায়শই শুনি, জনগণই ক্ষমতার মালিক। সংবিধানও তাই বলে। কিন্তু বাস্তবে যদি ভোটের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়, ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, অথবা কোনো বৃহত্তর শক্তির অদৃশ্য নির্দেশনায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাঁক নেয়, তাহলে প্রশ্ন জাগে, মালিক আসলে কে?

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। কিন্তু যদি অভিযোগ ওঠে প্রশাসন নিরপেক্ষ ছিল না, গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, অথবা অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শক্তির প্রভাব বিস্তার ঘটেছে, তাহলে সেই নির্বাচনের নৈতিক ভিত্তি কোথায় দাঁড়ায়?

প্রথম প্রশ্ন, গণমাধ্যমের বিভ্রান্তি কীভাবে দূর হবে? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তথ্যের স্বচ্ছতা অপরিহার্য। তথ্য যদি আংশিক, বিকৃত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিবেশিত হয়, তবে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ হারায়। প্রয়োজন স্বাধীন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্য উন্মুক্তকরণ আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব তথ্যের বাধ্যতামূলক প্রকাশ। গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক বা কর্পোরেট প্রভাব থাকলে তা শনাক্ত ও প্রকাশ করতে হবে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন, কে বা কারা জড়িত ছিল? কোনো অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া সত্য বলা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি তদন্ত ছাড়া অস্বীকার করাও সমান ক্ষতিকর। একটি স্বাধীন বিচারিক কমিশন, আন্তর্জাতিক মানের অডিট এবং প্রযুক্তিগত ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশাসনিক বা প্রযুক্তিগত কারচুপির অভিযোগ যাচাই করতে হবে। দায় নির্ধারণ ছাড়া আস্থার সংকট কাটে না।

তৃতীয় প্রশ্ন, প্রশাসন দুর্নীতি করেনি তা কীভাবে নিশ্চিত হলো? মৌখিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, প্রকাশ্য প্রতিবেদন এবং নাগরিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ। প্রশাসনের কার্যক্রম জনসমক্ষে পর্যালোচনার আওতায় না এলে নিরপেক্ষতার দাবি বিশ্বাসযোগ্য থাকে না।

চতুর্থ প্রশ্ন, প্রভাব বিস্তার হয়নি তার প্রমাণ কী? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, নিরাপত্তা কাঠামো, অর্থনৈতিক প্রণোদনা কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে যদি ভোটার আচরণ বা প্রার্থী নির্বাচনে প্রভাব পড়ে, তবে সেটি সরাসরি গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ। প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অর্থায়নের পূর্ণ স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক বদলি ও নিয়োগে নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

এখানে আরেকটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে। যদি সত্যিই কোনো আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক শক্তি, অথবা অভ্যন্তরীণ কোনো অদৃশ্য শক্তিকেন্দ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে, তাহলে জনগণের ভোটাধিকার কি বাস্তবে অক্ষুণ্ণ থাকে? যদি জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত না হয়, তাহলে এত সংগ্রাম, ত্যাগ ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রয়োজন কী ছিল?

গণতন্ত্রে নির্বাচন কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একটি সামাজিক চুক্তি। জনগণ ভোট দেয় এই বিশ্বাসে যে তাদের মতামত গণনায় প্রতিফলিত হবে। সেই বিশ্বাস ভেঙে গেলে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ কারণেই ব্যঙ্গের জন্ম হয়।

স্বাভাবিক নাগরিকরা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন। রোদে পুড়লেন, বৃষ্টিতে ভিজলেন, ব্যালটে সিল মারলেন নিজের পছন্দের প্রতীকে। তাঁরা ভেবেছিলেন, এটাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে সাধারণ ও সুন্দর চিত্র।

কিন্তু আমাদের দেশে নাকি কিছু “অসাধারণ” মানুষও আছেন। তাঁরা এতটাই দক্ষ যে সাধারণ মানুষের সরল ভোট তাঁদের কাছে কাঁচামাল মাত্র। ভোট পড়েছে এক জায়গায়, তাঁরা সেটাকে সামান্য “সংস্কার” করে দিলেন। সিল যদি একটু এদিক ওদিক হয়, সংখ্যা যদি একটু কমবেশি হয়, ব্যালট যদি একটু “সংশোধন” চায়, তাঁরা প্রস্তুত। এই কারিগরি দক্ষতার নামই ইঞ্জিনিয়ারিং।

জনগণ ভোট দেয়, বিশেষজ্ঞরা ফলাফল গুছিয়ে দেন। জনগণ ভাবে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন সিদ্ধান্তটি “সামঞ্জস্যপূর্ণ” হয়েছে কি না। এখানে ভুল হয় না, কেবল সমন্বয় হয়। কারচুপি হয় না, কেবল কারিগরি সমাধান হয়। জনরায় বদলায় না, কেবল ব্যাখ্যা পাল্টায়।

প্রশ্ন তখন একটাই, যদি জনগণের ভোটকে পরে “সংস্কার” করতেই হয়, তাহলে ব্যালট বাক্সের এত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন কী?

তাহলে প্রতিরোধ কীভাবে সম্ভব?

প্রথমত, প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা। ভোট গণনার প্রতিটি ধাপ স্বাধীন অডিট ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, গণমাধ্যম সংস্কার। মালিকানা ও অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে পারে না।
চতুর্থত, নাগরিক অংশগ্রহণ। ভোট পর্যবেক্ষণ, তথ্য যাচাই এবং জনমত গঠনে নাগরিক সমাজকে শক্তিশালী করতে হবে।
পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বচ্ছতা। কোনো বিদেশি প্রভাব রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখলে তা সংসদীয় নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

সবশেষে মূল প্রশ্নটি আবার ফিরে আসে। আমরা কি সত্যিই জনগণকে মালিক হিসেবে দেখতে চাই, নাকি কেবল একটি শ্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে চাই?

গণতন্ত্র নিষ্ঠুর হতে পারে, কারণ এখানে সংখ্যাই শেষ কথা। কিন্তু গণতন্ত্র অন্ধ নয়। অন্ধ করে দেওয়া হয় তখনই, যখন তথ্য গোপন থাকে, তদন্ত হয় না, জবাবদিহি অনুপস্থিত থাকে।

সবশেষে আরও একটি কথা।

প্রশ্ন কে করবে? যদি আমরা প্রত্যেকে হৃদয়ে ধারণ না করি যে বাংলাদেশ আমাদের সবার, তাহলে প্রশ্ন তোলার নৈতিক ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যায়। রাষ্ট্র কোনো দলের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়, কোনো গোষ্ঠীর আধিপত্যের ক্ষেত্র নয়, কোনো বহিরাগত প্রভাবের পরীক্ষাগারও নয়। রাষ্ট্র মানে নাগরিকের সম্মিলিত ইচ্ছা, অধিকার ও দায়িত্ব। প্রশ্ন তোলা বিদ্বেষ নয়, প্রশ্ন তোলা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা।

আমরা প্রায়ই একটি শব্দ ব্যবহার করি, রাজাকার। ইতিহাসে এর অর্থ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু আজ কি এটি কেবল অতীতের পরিচয়, নাকি একটি মানসিকতার প্রতীক? যদি কেউ দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে দুর্বল করে, যদি জনগণের ভোটাধিকারকে খর্ব করে, যদি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া বা অদৃশ্য প্রভাবের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই প্রবণতাকে আমরা কী নামে ডাকব? আবার সব দেখেও যদি কেউ নীরব থাকে, ব্যক্তিগত সুবিধার কারণে সত্য উচ্চারণ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে সেটি কি নৈতিক দায়মুক্তি?

রাজাকার কেবল ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। যে কোনো সময়ে, যে কোনো ব্যবস্থায়, যখন জনগণকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যখন সত্যকে আড়াল করা হয় স্থিতিশীলতার অজুহাতে, যখন প্রশ্নকে নিরুৎসাহিত করা হয় ঐক্যের নামে, তখন সেই মানসিকতার পুনর্জন্ম ঘটে।

আমরা কবে নাগাদ এই মানসিকতা থেকে মুক্ত হবো? যখন ব্যক্তি, দল ও প্রতিষ্ঠান সবার আগে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেবে। যখন প্রশাসন প্রমাণ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করবে। যখন গণমাধ্যম ভয় বা পক্ষপাত ছাড়া সত্য অনুসন্ধান করবে। যখন নাগরিক নীরব দর্শক না থেকে সচেতন অংশগ্রহণকারী হবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আমাদের নিজেদের কাছে। কারণ রাষ্ট্রকে দুর্বল করা যেমন অপরাধ, তেমনি অন্যায় দেখেও সুবিধাবাদী নীরবতায় থাকা একটি গভীর নৈতিক ব্যর্থতা। একটি জাতি তখনই পরিণত হয়, যখন সে আত্মসমালোচনার সাহস রাখে এবং সত্যের মুখোমুখি হতে দ্বিধা করে না।

বাংলাদেশ আমাদের সবার। যদি আমরা সত্যিই তা বিশ্বাস করি, তবে প্রশ্ন তোলা আমাদের দায়িত্ব, প্রমাণ দাবি করা আমাদের অধিকার, আর সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

 

দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

‘শিক্ষাই গড়বে সোনার বাংলা’ স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ‘স্বপ্নছোঁয়া মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নোয়াগাঁও স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার নোয়াগাঁও ক্যামব্রিয়ান স্কুলে এ আয়োজন করা হয়।

স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. বাবুল খন্দকার।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিয়ে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার এবং ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা বিকাশ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ। শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো, তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবক মো. জাকির হোসেন, আলমগীর হোসেন, মো. শাকিল চৌধুরী, মো. আল আমিন, মো. রেজাউল করিম , মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল এনাম রনি।

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, পিকআপ জব্দ

ঢাকার আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) বিশেষ অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজাসহ মো. জামাল মিয়া ওরফে সেলিম (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ জব্দ করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সাভারে ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন কবিরপুর রেডিও কলোনী জামে মসজিদের সামনে সড়কে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে একটি পিকআপে গাঁজা নিয়ে চন্দ্রা থেকে বাইপাইলের দিকে আসা হচ্ছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কবিরপুর রেডিও কলোনী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় পিকআপ থেকে ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া জব্দ করা নীল রঙের নম্বরপ্লেটবিহীন ফোটন পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা।

গ্রেপ্তার জামাল মিয়া ওরফে সেলিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার বনগজ এলাকার বাসিন্দা। ডিবি পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে তিনটি মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা ও একটি চুরির মামলা রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা ডিবি-উত্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই শেখ মফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

মোঃ হাফিজুর রহমান, আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

ঢাকার আশুলিয়ায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানকে পথরোধ করে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় জামাল হোসেন মুকুলের স্ত্রী মোছা. আলো বেগম (৪০) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।তিনি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কর্মরত আছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে আশুলিয়ার বাইপাইল শান্তিনগর এলাকায় সিদ্দিকের বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের দাবি, ওই সময় এলাকাটি নির্জন ছিল এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি বুঝে তিনি সিদ্দিকের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং চিৎকার করলে বাড়ি থেকে লোকজন বেরিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যান। এ সময় অন্ধকারে আরও কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি তাঁর। তাঁদের নেতৃত্বে কাউছার নামে এক ব্যক্তি ছিলেন বলেও জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের অভিযোগ, জামাল হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে অতীতে প্রতারণার অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর সন্দেহ।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন ওই সাংবাদিক।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।