শ্রমিক তৌফিকের স্মরণে দোয়া, বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জেলার প্রায় ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। তবে উৎপাদনের চাপ থাকায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানায় সীমিত পরিসরে কাজ চলেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের কোথাও নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ ছিল। তবে কাজের চাপ থাকায় কিছু কারখানায় অতিরিক্ত সময়ের ভিত্তিতে উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, শনিবার (৭ নভেম্বর) বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে। এ সময়ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
*নিহত শ্রমিক তৌফিকের স্মরণে দোয়া মাহফিল*
এদিকে শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আন্দোলনের সময় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা এবং এবি পার্টির নেতারা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের অভিযোগ, পুলিশি বাধার কারণে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়েই তাঁদের কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।
দোয়া মাহফিল শেষে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির বিষয়ে সরকারকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সড়কের নাম তৌফিকের নামে নামকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় আগামী তিন দিনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় নতুন করে আন্দোলন শুরু হতে পারে।
*যেভাবে শুরু হয় শ্রমিক অসন্তোষ*
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
আন্দোলনের মধ্যে বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
তবে কয়েক দিনের অস্থিরতার পর শুক্রবার নতুন কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটায় শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরেছে। শ্রমিক, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]