খুঁজুন
, ,

১৪৫৭ কোটি টাকার খুরুশকুল মডেল টাউন: লটারির মাধ্যমে নতুন স্বপ্নের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা পেল ৭৩০ পরিবার

আহনাফ হামিম,​বিশেষ প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
১৪৫৭ কোটি টাকার খুরুশকুল মডেল টাউন: লটারির মাধ্যমে নতুন স্বপ্নের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা পেল ৭৩০ পরিবার

 

 

জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম আঘাত আর বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কারণে ভিটেমাটি হারানো কক্সবাজারের সমিতিপাড়ার হাজারও মানুষের জন্য এসেছে বহু প্রতীক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। জীর্ণ ও স্যাঁতসেঁতে ঝুপড়িঘর ছেড়ে তাদের এবার উঠতে হচ্ছে আধুনিক বহুতল ভবনের সুসজ্জিত ফ্ল্যাটে। গতকাল রোববার (২ আগস্ট) কক্সবাজারের খুরুশকুলে জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এক স্বচ্ছ ও আনন্দঘন পরিবেশে ফ্ল্যাট বরাদ্দের লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ লটারির মাধ্যমেই ৭৩০টি জলবায়ু উদ্বাস্তু ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য সুনির্দিষ্ট ভবন ও ফ্ল্যাট নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বহু বছরের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিজেদের একটি নিরাপদ ঠিকানার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে শত শত পরিবার।
​প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও মানবিক এ আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রমতে, পুরো প্রকল্পে মোট ৪ হাজার ১২৮টি বাস্তুচ্যুত পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১২৯টি দৃষ্টিনন্দন পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে ৩২টি করে আধুনিক ফ্ল্যাট। ইতোমধ্যেই ১২২টি ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৭টির কাজও শেষের পথে। এর আগে প্রথম ধাপে ১৯টি ভবনে ৬০০টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
​শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, খুরুশকুল আবাসন প্রকল্পকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব মডেল টাউন হিসেবে। বাকখালী নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে এখানে বর্জ্য শোধনাগার (STP), ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি ভবনে সোলার প্যানেল, রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা এবং নিচতলায় দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাসিন্দাদের সুবিধার্থে মসজিদ, মন্দির, কমিউনিটি সেন্টার, মার্কেট কমপ্লেক্স, চারটি সাইক্লোন শেল্টার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বাকখালী নদীর তীরে দুটি জেটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
​প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখে বস্তিতে বসবাসকারী মানুষকে একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের জীবন উপহার দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান নিশ্চিত করেছেন যে, শুরু থেকেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে সবার সামনে শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লটারি সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান এলাকাটিকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত টহল ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ লটারির মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত এই মানুষগুলো কেবল এক টুকরো ছাদই পাননি, বরং খুঁজে পেয়েছেন সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার এক নতুন আশ্বাস।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় হামলা-ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও কারখানায় হামলা-ভাঙচুর

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে আশপাশের কয়েকটি চালু কারখানায়ও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল আনসার রোড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কে চলাচলরত বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে আশপাশের উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকা কয়েকটি কারখানায়ও হামলার ঘটনা ঘটে।

হঠাৎ এ হামলার ঘটনায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা সেখান থেকে সরে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর বড় অভিযান: ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর বড় অভিযান: ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও পাঁচটি দেশীয় তৈরি অস্ত্রসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার গ্রামের আঠারো ঘরপাড়া এলাকায় সীমান্তসংলগ্ন একটি ধানক্ষেতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসআরবি-১৫-এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি চক্র সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার এলাকায় অবস্থান করছে। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আবছার উদ্দীন (১৯) এবং মৌলভীবাজার এলাকার ছলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আদিল (২৬)।

এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের মাধ্যমে বড় বড় ইয়াবার চালান দেশে প্রবেশ করছে। এসব মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এসআরবি-১৫-এর ৫৫টি অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা, ৪৮ কেজি গাঁজা, একটি একনলা বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটারগান, ১৭ রাউন্ড গুলি ও ২৭ রাউন্ড গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতজন অপহৃত ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং মোট ৮৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিনায়ক বলেন, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নির্মূলে এসআরবি-১৫-এর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে পর্যায়েরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনী বদ্ধপরিকর।

গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

শৈলকূপাতে দুই নারী ছিনতাইকারী আটক

এইচ এম রাহুল ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
শৈলকূপাতে দুই নারী ছিনতাইকারী আটক

 

ঝিনাইদহের শৈলকূপা বাজারে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ছিনতাইকারী দুইজন জামালপুর জেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তাকতাপাড়া গ্রামের ফরিদা বেগম (২১) এবং একই গ্রামের নিপা আক্তার (২৬) । তারা উভয়েই বেদে সম্প্রদায়ের ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসহাক হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শৈলকূপা বাজারের পূবালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে আসেন। ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা উত্তোলন শেষে বের হয়ে পুরাতন সোনালী ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য তাকে ঘিরে ধরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বৃদ্ধ ইসহাকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে চক্রের দুই সদস্য পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা দুই নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, জনতার হাতে আটক দুই নারীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।